রাজশাহী

গুরুদাসপুরে হত্যা মামলার আসামিকে হাত-পা কেটে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯     আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯      

নাটোর প্রতিনিধি

নিহতদের স্বজনদের আহাজারি- সমকাল

নাটোরের গুরুদাসপুরে হত্যা মামলার এক আসামিকে হাত-পা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টর দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জালাল হোসেন মন্ডল (৬০) মোমিন মন্ডল হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। তিনি ৮ বছর ধরে সপরিবারে ঢাকায় বাস করতেন।

হা‌জিরা দি‌তে যাওয়ার সময় জালালকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সমকালকে জানিয়েছেন গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, অবসরপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল জব্বারের বাসায় কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন জালাল। বুধবার তিনি হত্যা মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য বাড়ি আসেন। 

তারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে যোগেন্দ্র নগর গ্রামের বাড়ি থেকে জালাল নাটোরে আদালতে যাওয়ার সময় পথে সাবগাড়ী বাঁধ এলাকায় পৌঁচ্ছালে বাধার মুখে পড়েন।

এসময় একই গ্রামের মোমিন মন্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম, আক্কাছ মন্ডলের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান, সাইদুরের সহযোগী খামার নাচকৈড়ের আব্দুর রব্বেল প্রামানিকের ছেলে শামসুল হক ও তার আরো তিন-চারজন সহযোগী পথ রোধ করে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে তার বাম হাত কেটে নেয় বলে অভিযোগ।

এক পর্যায়ে জালারের বাম পায়ের রোগও কেটে ফেলা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থা আশংকাজনক দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে স্থানান্তর করেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিৎিসাধীন অবস্থায় দুপুরে তিনি মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নিহত জালাল ওই গ্রামের আমজাদ হোসেন ওরফে আনন্দ মন্ডলের ছলে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জালারের পরিবার ৫ বছর এলাকা ছাড়া ছিল। ওই সময় জালালসহ তাদের জমিজমা দখলকরে নেয় সাইদুলরা। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আশরাফুলের ভাই রফিকের হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়। সেই থেকে রফিক পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছেন। ওই সময় বৃদ্ধ মোমিন মন্ডলকে হত্যা করা হয়।

এর ৬ মাসের মধ্যে জালালের আত্মীয় পাগল সফুরাকে হত্যা করা হয়। সফুরা হত্যা মামলায় সাইদুলসহ তারা আসামি বলে জানা যায়। এ থেকে পরিবার দুটিতে হত্যা মামলা চলে আসছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মোমিন মন্ডল ও সফুরা হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জালালকে গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে প্রাথমিক চিকিৎসার সময় চিৎকার করে ওই সকল হামলাকারীদের নাম বলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, সাইদুলসহ যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা প্রকৃতই সন্ত্রাসী। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজহাসপাতালে নিয়ে ভর্তির পর চিকিৎসাধীনঅবস্থায় জালাল মারা গেছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও কেটে নেওয়া হাত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বিষয় : নাটোর