রাজশাহীতে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৯      

রাজশাহী ব্যুরো

গ্রেফতার রেন্টু

রাজশাহীতে পরকীয়ার অভিযোগে লাভলী বেগম (২৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তার স্বামী শরিফুল ইসলাম রেন্টু (৩৫)।

বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে পবা উপজেলার শিতলাই ইউনিয়নের কলারটিকর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

শুক্রবার বিকেলে মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ঘাতক স্বামী রেন্টু। 

ঘাতক রেন্টু পবা উপজেলার দামকুড়া থানার কলারটিকর গ্রামের কাশেম উদ্দীন খোকার ছেলে। নিহত লাভলী কর্ণহার থানার সাইরপুকুর এলাকার মো. বাবলুর মেয়ে। 

পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, রেন্টু ও লাভলীর সংসারে দু’টি সন্তান রয়েছে। তাদের সন্তান রাব্বি ৮ম শ্রেণিতে এবং মেয়ে নাছিমা প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। রেন্টু পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিলো।

রেন্টুর অভিযোগ, তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন। একারণে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে তালাকও হয়। পরে গ্রাম্য শালিশে সমঝোতা হলে তারা নতুন করে ঘর সংসার শুরু করেন। কিন্তু লাভলী পুরনো সম্পর্ক থেকে বের না হলে ভেতরে ভেতরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন রেন্টু। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে লাভলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রেন্টু। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তাদের দুই সন্তানকে আগেই নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

পুলিশকে রেন্টু জানান, স্ত্রীকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা মতো তিনি তৈরি হন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘুমন্ত স্ত্রীকে প্রথমে শাবল  দিয়ে মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করেন। এরপর স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত করতে প্রথমে ছুরি দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে দেন। এরপর দুই পায়ের রাগ কাটেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনি নগরীর দামকুড়া থানায় গিয়ে হাজির হন। 

সেখানে গিয়ে তিনি পুলিশকে জানান, পরকীয়ার অভিযোগে স্ত্রীকে তিনি গলাকেটে হত্যা করে থানায় এসেছেন। তাকে গ্রেফতার করতে নিজেই অনুরোধ করেন পুলিশকে। পুলিশ পরে লাভলীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। 

দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, রেন্টু রাত সাড়ে ৩টার দিকে থানায় হাজির হয়ে স্ত্রীকে পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যার করার কথা জানিয়েছেন। পরে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর গলাকাটা লাশ পায়। 

তিনি বলেন, ‘খুবই ঠাণ্ডা মাথায় স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছেন রেন্টু। পরে তিনি পুলিশের কাছেও ঘটনা স্বীকার করেছেন। এরপর শুক্রবার বিকেলে তাকে মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় একই ধরনের স্বীকারোক্তি দেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় লাভলীর বাবা মো. বাবলু বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় রেন্টুকে আসামি করে এ হত্যা মামলা করেছেন।