তাড়া খেয়ে পালালেন ট্রাফিক সার্জেন্ট

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৯      

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের কড্ডা ফাঁড়ির খণ্ডকালীন ট্রাফিক সার্জেন্ট মুনতাছির মাহমুদের ঘুষিতে আহত আনোয়ার হোসেন -সমকাল

সিরাজগঞ্জের কড্ডা ফাঁড়ির খণ্ডকালীন ট্রাফিক সার্জেন্ট মুনতাছির মাহমুদের বিরুদ্ধে এক সেনাসদস্যকে বিনা অপরাধে গালমন্দ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে তিনি পালিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ট্রাফিক ফাঁড়ির অদূরে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে মাইক্রোবাস রাখার অপরাধে স্থানীয় মুদি দোকানি এবং সহকর্মীর সামনে সেনাসদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। সরকারি চাকরির পরিচয় পেয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে উপর্যুপরি বেশ কয়েকটি ঘুষি মেরে তার দাঁতের মাড়ি রক্তাক্ত করে দেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী সেনাসদস্য।

মুনতাছির মাহমুদের বর্তমান কর্মস্থল রাজশাহী জেলা সদরে। কোরবানির ঈদের জন্য খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালনে জেলার কড্ডা ফাঁড়িতে সংযুক্ত হন তিনি। আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের একজন সৈনিক। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলার জালালাবাদ সেনানিবাসের এসআইএনটি বিভাগে কর্মরত। গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার নিশিবয়রা গ্রামে। ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।

আনোয়ার হোসেন বলেন, গাড়ি আমি নিজেই চালাচ্ছিলাম। কড্ডার মোড়ে দক্ষিণ লেনে আমি গাড়ি থামালে হঠাৎ সার্জেন্ট মুনতাছির এসে এখানে গাড়ি থামিয়েছিস কেন বলে 'তুই-তোকারি' সম্বোধন করেন। প্রতিবাদ করায় তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে বাডি দেন। এ সময় আমি আমার সরকারি পরিচয় দিলেও তিনি পরপর পাঁচটি ঘুষি মেরে আমাকে রক্তাক্ত করেন। বিষয়টি দেখে স্থানীয় লোকজন ও আমার সহকর্মীরা হতভম্ব হয়ে যান এবং তাকে তাড়া করেন।

এ বিষয়ে কড্ডায় ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থানরত রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারুল আরিফ বলেন, আমি সকাল সোয়া ৯টার পর এসেছি। বিষয়টি অবগত নই।

রাজশাহী জেলার ট্রাফিক পরিদর্শক সৈয়দ মিলাদুল হুদা বলেন, ঘটনার পর মুনতাছিরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে, যতদূর জেনেছি ওই সেনাসদস্য অবৈধভাবে মহাসড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং করেন। তাকে নিষেধ করায় তিনি উল্টো হম্বিতম্বি ও সার্জেন্ট মুনতাছিরের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।