বগুড়ায় ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ৫

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০১৯      

বগুড়া ব্যুরো

ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নওগাঁর এক সাংবাদিকসহ ৫ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বগুড়া পুলিশ। 

শুক্রবার সকালে গ্রেফতারের পর রাতে তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে দু'জন নওগাঁর বাসিন্দা এবং বকি তিনজনের বাড়ি বগুড়ায়। পুলিশ বলছে, তারা সবাই নওগাঁর 'হরিরামপুর দুস্থ মহিলা বহুমুখী সংস্থা (এইচডিএমবিএস)' নামে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

গ্রেফতার পাঁচজন হলেন- একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নওগাঁ প্রতিনিধি জেলার পার নওগাঁ এলাকার মামুনুর রশিদ বাবু, একই জেলার বদলগাছি উপজেলার বেগুন জোয়ার গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম, বগুড়া সদরের ধরমপুরের হাফিজার রহমান, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মোড় গ্রামের মিজানুর রহমান ও শেরপুর উপজেলার আমিনপুর গ্রামের এমএ মালেক। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বাদী চাকরিপ্রত্যাশী বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দোপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে ফরহাদ আলম এজাহারে অভিযোগ করেছেন, আসামিরা নওগাঁর হরিরামপুর দুস্থ মহিলা বহুমুখী সংস্থার নামে ১৪টি পদে ৫৮৮ জন লোক নিয়োগের জন্য গত ২২ আগস্ট বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

ফরহাদ আলম জানান, চাকরি পাওয়ার আশায় তিনিসহ সহস্রাধিক ব্যক্তি সেখানে আবেদন করেন। এরপর তাকেসহ তিন শতাধিক আবেদনকারীকে ফোন দিয়ে ৪ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে বগুড়া সদরের নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কার্যালয়ে সাক্ষাতের জন্য হাজির থাকতে বলা হয়। তিনি শুক্রবার সকালে নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের একটি বাড়ির দোতলায় হরিরামপুর দুস্থ মহিলা বহুমুখী সংস্থা লেখা একটি কাপড় ঝুলতে দেখেন এবং চাকরি প্রার্থীদের ভিড়ও দেখতে পান। একপর্যায়ে তাকে সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়। তবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তিনি খবর নিয়ে জানতে পারেন অন্য প্রার্থীদের কাছ থেকেও ২ হাজার এবং ১ হাজার টাকা করে তারা নিয়েছে। এতে তিনিসহ অন্য চাকরি প্রার্থীদের সন্দেহ হলে তারা একজোট হয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের কাছ থেকে চাকরি প্রদানের প্রমাণস্বরূপ নিয়োগপত্র দাবি করেন। তখন তারা টালবাহানা শুরু করেন। এতে প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে দুপুর ২টার দিকে বগুড়া সদর থানার এসআই খোরশেদ আলম ঘটনাস্থলে যান।

এসআই খোরশেদ আলম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার পর হরিরামপুর দুস্থ মহিলা বহুমুখী সংস্থা নামে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত উল্লিখিত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেন এবং বিকেলে থানায় নিয়ে আসেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, কথিত ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন নেই। চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়।