চাকরি স্থায়ী হওয়ার ৯ মাস পর বরখাস্ত করা হয়েছে পাবনার পাকশী বিভাগীয় রেলের রাজস্ব খাতের ১৯ জন (পোর্টার) শ্রমিককে। এসব শ্রমিক বিভিন্ন ট্রেনে কর্মরত ছিলেন। বরখাস্তের আদেশে গত ৯ মাসের বেতন-ভাতাসহ রেলের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক সুবিধার অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বাণিজ্যিক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, তিন বছর অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করার পর ওই শ্রমিকরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর রায় পান। রায়ের আদেশ অনুযায়ী গত বছর ২৮ ডিসেম্বর থেকে তাদের চাকরিতে রাজস্ব খাতে আত্তীকরণের মাধ্যমে স্থায়ী করে রেলওয়ের রাজশাহী (পশ্চিম) জিএম কার্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চাকরির ৯ মাস পর রোববার রেলওয়ের রাজশাহীর সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার (পশ্চিম) কার্যালয় থেকে এসব শ্রমিককে জানানো হয়, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া রায় ও আদেশটি অবৈধ, মিথ্যা ও বানোয়াট ছিল। এ কারণে ১৯ জন পিটিশনকারীর আত্তীকরণ সংক্রান্ত জিএম (পশ্চিম) রাজশাহীর আদেশ বাতিল করা হলো।

বরখাস্তের আদেশ পাওয়া শ্রমিকরা বলেন, আমরা প্রায় তিন বছর অস্থায়ীভাবে পোর্টার পদে কাজ করার পরে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে রায় পেয়ে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি করছিলাম। হাইকোর্টের সেই আদেশ যাচাই-বাছাই করেই আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সে আদেশ যদি মিথ্যা হয় তাহলে এতদিন পর কেন আমাদের বরখাস্ত করা হলো। রিট পিটিশন দায়েরকারী শ্রমিক মিলন বিশ্বাস বলেন, আমরা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাব।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন বলেন, চিফ পার্সোনেল অফিসার রাজশাহীর (পশ্চিম) কার্যালয়ের চিঠি রোববার বিকেলে আমি পেয়েছি। এরই মধ্যে ১৯ শ্রমিককে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার রাজশাহী (পশ্চিম) এস এম আকতার হোসেন বলেন, ১৯ জন পিটিশনকারীর আত্তীকরণ সংক্রান্ত জিএম (পশ্চিম) রাজশাহীর আদেশটি বাতিল করে ১৯ শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে।