প্রেমিকার আত্মহত্যার খবর মেনে নিতে না পেরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে জাকারিয়া (২৪) নামের এক যুবক। চার তলার ছাদ থেকে দোতলার কার্নিশে পড়ে ওই যুবকের পা ভেঙ্গে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

আত্মহননকারী মেয়েটির নাম মোছা. নাহিদা(১৮)।  তিনি বগুড়া বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। নাহিদার বাড়ি জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আজতার হোসেনের মেয়ে। নাহিদা বগুড়া শহরের বৃন্দাবনপাড়ায় চান্দিনা নামে একটি ছাত্রাবাসে থেকে পড়ালেখা করতেন।

আহত জাকারিয়া কুষ্টিয়া জেলার দহগ্রাম এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল সংলগ্ন ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, জাকারিয়ার সঙ্গে ফেসবুকে নাহিদার পরিচয় হয়। রোববার জাকারিয়া বগুড়ায় আসেন এবং নাহিদার সঙ্গে দেখা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, দিনের কোন এক সময় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে নাহিদা গ্যাসের ট্যাবলেট খান। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৭টার দিকে তাকে শজিমেক হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রফিকুল ইসলাম আরও জানান, প্রেমিকার এমন মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে জাকারিয়া শজিমেক হাসপাতালের চার তলায় উঠে লাফ দেন। তবে তিনি নিচে না পড়ে দোতলার কার্নিশে আটকে যান। তার অবস্থাও গুরুতর।

নাহিদার বাবা আকতার হোসেন জানান, তার মেয়ে চার দিন আগে বগুড়ায় মেসে এসেছে। রোববার সন্ধ্যার দিকে নাহিদার এক বান্ধবী তার গুরুতর অসুস্থতার কথা জানিয়ে ফোন করে। খবর পেয়ে বগুড়ায় পৌঁছে তিনি মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

নাহিদার বাবা আরও জানান, কোনো ছেলের সঙ্গে নাহিদার কোন সম্পর্ক ছিল কি'না বা কি কারণে সে আত্মহত্যা করেছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, তিনি ওই ঘটনার কথা শুনেছেন।