বগুড়ার নন্দীগ্রামে মৃত্যুর পাঁচ বছর পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হয়েছে সাংবাদিক শফিউল আলম বিপুলের মরদেহ। 

বিপুলের মৃত্যুর পর ‘দুর্ঘটনায় নিহত’ হয়েছেন বলে প্রচার করা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাকে ‘পিটিয়ে মারা হয়েছে’। মৃত্যুর পাঁচ বছর পর সেই অভিযোগে হত্যা মামলাটি আদালতের নির্দেশে নন্দীগ্রাম থানায় রেকর্ডভুক্ত হয়। আদালত নির্দেশ দেন মরদেহের ময়নাতদন্ত হোক।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপম দাসের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বর্ষণ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে বিপুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হয়।  

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে সমকালকে বলেন, ‘মরদেহ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

২০১৬ সালের ১৮ জুন সাংবাদিক বিপুল মারা যান। শফিউল আলম বিপুল বর্ষণ গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে। তিনি দৈনিক ইত্তেফাক ও স্থানীয় দৈনিক সকালের আনন্দ পত্রিকার নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

তার মৃত্যুর চার বছর কেটে যাওয়ার পর ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় আসামি করা হয়েছে, উপজেলার বর্ষণ গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে আমিনুল ইসলাম জুয়েল (৩৫), আব্দুল মান্নান (৩৮), নছির উদ্দিনের ছেলে মোজাম্মেল হক (৫৫), আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল মজিদের ছেলে মানিক উদ্দিন (২৭), ইসমাইল হোসেনের ছেলে খোকন হোসেন (৪৫), কোলদিঘী গ্রামের আব্দুল জোব্বারের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪৫) ও বরেন্দ্র পাকুরিয়াপাড়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে আবু সাঈদ (৩৫)। 

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘২০১৬ সালের ১৮ জুন বিকেলে বিপুলের মোটরসাইকেলে উঠেন প্রধান আসামি আমিনুল ইসলাম জুয়েল। বাড়ি থেকে নন্দীগ্রাম যাওয়ার পথে বরিন্দা পাগরাপাড়া এলাকায় বিপুলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালানোর অপকৌশল করা হয়।’