বিশ্ববাজারে দর বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণের পণ্য আনতে আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর মধ্যে আবার ডলার বিক্রির ফলে বাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় অঙ্কের টাকা ঢুকেছে। এতে করে উদ্বৃত্ত তারল্যে কিছুটা টান ধরেছে। দীর্ঘ সময় পর গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য ২ লাখ কোটি টাকার নিচে নেমেছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, চাহিদা অনুপাতে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ না থাকায় প্রচুর ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ৫১১ কোটি ডলার বিক্রির বিপরীতে ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি উঠে এসেছে। এ ছাড়া করোনা-পরবর্তী বাড়তি চাহিদা এবং বিশ্ববাজারে দর বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি গত মার্চ শেষে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে উঠেছে। এসব কারণে উদ্বৃত্তে তারল্যে টান পড়ায় অনেক ব্যাংক এখন কলমানি থেকে নিয়মিত ধার করছে। ঈদের পরও শুধু আন্তঃব্যাংক কলমানি বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ নেমেছে এক লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে যা ২ লাখ ১১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা ছিল। প্রতি প্রান্তিকেই উদ্বৃত্ত তারল্য কমছে।

উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই অলস অর্থ নয়। বরং উদ্বৃত্ত অর্থের বেশিরভাগই সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ রয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকের মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের ১৩ শতাংশ সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ বা এসএলআর হিসেবে বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে রাখতে হয়। আর নগদ জমা সংরক্ষণ বা সিআরআর রাখতে হয় ৪ শতাংশ। এ দুইয়ের অতিরিক্ত যে অর্থ, তা উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।