যমুনা নদীতে নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর দুই ভাইয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে পাবনার নগরবাড়ি নৌ বন্দরের প্রতাপপুর নামক স্থানে ভেসে ওঠে তাদের মরদেহ।

নিহতরা হলেন, সাঁথিয়ার ভৈরবপুর গ্রামের মৃত আক্কাছ সর্দারের ছেলে পান্না সর্দার (২৮) এবং সুজানগরের কোলচুড়ি গ্রামের আমিরুল শেখের ছেলে আশিক ওরফে পিয়াস শেখ (২০)। তারা সম্পর্কে খালাত ভাই।

নগরবাড়ি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম এবং পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এএম রফিকুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরের দিকে প্রতাপপুর জামে মসজিদের কাছে যমুনা নদীতে মরদেহ দুটি ভেসে ওঠে। সেখানে একটি কার্গো জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর পরই এগুলো ভেসে ওঠে। স্রোতে মরদেহ দুটি জাহাজের নিচে এসে আটকে ছিল বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। এসময় মৃতদের স্বজনদের আহাজারিতে নদী তীরের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরবাড়ি নৌ বন্দরে জাহাজের ধাক্কা থেকে বাঁচতে নৌকা থেকে যমুনা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ওই দুই যুবক। এরপর শনি ও রোববার দুপুর পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদল তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালায়। কিন্তু বৈরি আবহাওয়া ও তীব্র স্রোতের কারণে অনুসন্ধান অভিযান বন্ধ করে ডুবুরিরা।

নগরবাড়ি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, পাবনায় ডুবুরি না থাকায় তাঁরা রাজশাহীতে ডুবুরির জন্য খবর পাঠান। সেখান থেকে ডুবুরিদল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু রোববার দুপুরে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধার অভিযান শেষ করে তাঁরা রাজশাহী ফিরে যান।

তিনি আরও জানান, মরদেহ দুটি রঘুনাথপুর গ্রাামের নজরুল ইসলাম শেখের বাড়িতে আপাতত আছে। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পর মরদেহ দুটি তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এএম রফিকুল্লাহ জানান, নিখোঁজ দুজনের মধ্যে পান্না সর্দার সাঁতার জানতেন। কিন্তু তিনি তাঁর ছোট ভাই আশিককে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই ডুবে যান।

জানা যায়, খালাত বোনের বিয়ে উপলক্ষে তারা রঘুনাথপুর গ্রামে তাদের খালু নজরুল ইসলাম শেখের বাড়ি গিয়েছিলেন। শনিবার তাদের ছেলে পক্ষের বাড়ির অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগে তাঁরা শখের বশে একটি নৌকা নিয়ে যমুনা নদীতে ঘুরতে গিয়ে নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন।