যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোড়লের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে নিজ বাড়িতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দু'জন উদ্যোক্তা নিয়োগের মাধ্যমে তথ্য সেবাকেন্দ্রটি পরিচালনার কথা থাকলেও তা চলছে মেয়ের জামাই ও স্বজনের মাধ্যমে। এতে ইউনিয়নের বাসিন্দারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোড়ল বলেন, 'বাসিন্দাদের অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছি। পরিষদের চেয়ে এখানে সবাই ভালো সেবা পাচ্ছেন।'

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তিন কিলোমিটার দূরে চেয়ারম্যান নিজের বাড়িতে সব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সেখানে ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার ও প্রিন্টার বসিয়ে তিনি স্বজনের মাধ্যমে ডিজিটাল সেন্টারের কাজ করাচ্ছেন।

উদ্যোক্তা হাসান রেজার অভিযোগ, চেয়ারম্যান ডিজিটাল সেন্টারের সরঞ্জাম বাড়ি নিয়ে গেছেন। সেখানেই বেশিরভাগ কাজ হচ্ছে, করছেন তাঁর স্বজন। এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এখানে কর্মরতরা অলস সময় পার করছেন। ইউপি সদস্যদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে সেবাকেন্দ্র চেয়ারম্যান বাড়িতে বসিয়েছেন। মাঝখানে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সুমি আক্তার জানান, তাঁদের চেয়ারম্যান নিয়মিত পরিষদে আসেন না। নাগরিক সনদ নেওয়ার জন্য কার্যালয়ে এসে তাঁকে পাননি। কার্যালয় থেকে তিন কিলোমিটার দূরে চেয়ারম্যানের বাড়ি গিয়ে অনেক ভোগান্তির পর সনদ পেয়েছেন। সুমির প্রশ্ন, ইউনিয়নের কাজ হবে ইউনিয়নে; সেবাগ্রহীতারা কেন চেয়ারম্যানের ইটভাটা কিংবা বাড়ি যাবেন?

তৌফিকুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে শত শত মানুষ এসে ফিরে যাচ্ছেন। জন্মসনদের ভুল সংশোধনে চেয়ারম্যান ৭০০ টাকা নেন। কিন্তু দুই মাসেও সনদ দেননি।

সরেজমিন চেয়ারম্যান শাহজাহান আলীর বাড়ি গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলে। বারান্দায় তাঁর স্বজনরা ডিজিটাল সেন্টারের কাজ করছেন। গদখালী ইউপির সদস্য শাইনুর বীর শাহীন, শেখ আনারুল ইসলাম ও শামসুর রহমানের অভিযোগ, চেয়ারম্যান কারও ধার ধারেন না। সবকিছুতে নিজের ক্ষমতা খাটান। সদস্যদের কারও পরামর্শ নেন না। একতরফা ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের কাজ বাড়ি নিয়ে গিয়ে মেয়ের জামাইসহ স্বজনদের দিয়ে চালাচ্ছেন। আর পাশেই ইটভাটাতে অস্থায়ী কার্যালয় খুলে করছেন পরিষদের অন্যান্য কাজ। এতে নাগরিক সেবা পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে ইউনিয়নবাসীকে।

অবশ্য একই অভিযোগ যশোরের আরও কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সাইফুজ্জামান বলেন, ইউনিয়নে তাঁরা এসে বসে থাকেন। নতুন চেয়ারম্যান এলে নতুন করে কার্যক্রমের চুক্তি হয়। এ চেয়ারম্যান তাঁর সঙ্গে চুক্তি না করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেক উদ্যোক্তার একই অবস্থা। তিনি উদ্যোক্তাদের কাজের সহায়তায় সরকারের কাছে নীতিমালা তৈরির দাবি জানান।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যশোরের উপপরিচালক (উপসচিব) হুসাইন শওকত বলেন, 'জনসাধারণের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সেবা পৌঁছে দিতেই ইউনিয়নে তথ্য সেবাকেন্দ্র চালু করে সরকার। জনপ্রতিনিধিদের কারণে যদি এ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'