আশুগঞ্জের সোহাগপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধার ভিটেবাড়ি দখলের পাঁয়তারা, তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা ও জোর করে স্ট্যাম্পে অপর ভাইয়ের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুক্তিযোদ্ধার ভাতিজা একই গ্রামের শিপন সিকদারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধার ছোট ভাই শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহানশাহ সিকদার আদালতে এবং শারীরিক হামলার অভিযোগে অপর ছোট ভাই সাহাব্বল সিকদার থানায় অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অভিযুক্ত শিপন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুলের ছোট ভাই প্রয়াত শাহ আলম সিকদারের ছেলে।

সাহাব্বল সিকদারের অভিযোগ, বড় ভাইয়ের নির্দেশে তাঁর ভিটেতে দেয়ালের ওপর টিনের বেড়া নির্মাণ করতে গেলে শিপন বাধা দেন এবং তাঁকে মারধর করেন। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সুস্মিতা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে আবেদন করলে মন্ত্রী আশুগঞ্জের ইউএনওকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ করেন।

এদিকে সাইফুলের পক্ষ অবলম্বন করায় তাঁর আরেক ছোট ভাই শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহানশাহ সিকদারকে জোর করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন শিপন। তিনি এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, নিজের ভিটে দখলের চেষ্টা এবং তাঁর ভাইদের ওপর হামলা ও হয়রানি করায় তিনি খুবই মর্মাহত। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অভিযুক্ত শিপন সিকদার বলেন, বড় চাচার ভিটেভূমি দখল করার অভিযোগ মিথ্যা। চাচা (সাইফুল) এ জমি তাঁর কাছে বিক্রি করতে চাইলে তিনি তা কিনতে রাজি হয়েছিলেন। এ ছাড়া অপর চাচার ওপর হামলা ও জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও মিথ্যা। তবে জমি বিক্রি নিয়ে তাঁদের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটি মীমাংসার জন্য স্বজনরা চেষ্টা করলেও ছোট চাচা সাহাব্বল তা মানছেন না।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার ওসি আজাদ রহমান দু'পক্ষের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়গুলো জমিজমা-সংক্রান্ত হওয়ায় তিনি তাঁদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও অরবিন্দ বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুলের করা আবেদনের কপি পেয়েছেন জানিয়ে বলেন, তিনি সরেজমিন যাবেন এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবেন।