আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে। ৮ ও ৯ ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের ৩০তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। 

রোববার বিকেলে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর স্থগিত হওয়ায় সম্মেলনের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ছাত্রলীগের যেকোনো কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তার দেশের বাইরে যাওয়ার শিডিউল পরিবর্তন হওয়ার কারণে আমাদের সম্মেলন এগিয়ে আনা হয়েছে। শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সম্মেলন আয়োজনে কাজ করছি।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর থাকায় তার নির্দেশে সম্মেলনের তারিখ পেছানো হয়। একইসঙ্গে ডিসেম্বরের যেকোনো তারিখে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

এর কিছুদিন পর ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন, আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গত ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, আগামী ৮ ডিসেম্বর সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এবার প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর স্থগিত হওয়ায় সম্মেলনের তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে রোববার পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ছাত্রলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ৬ ডিসেম্বর সম্মেলন আয়োজনে সম্মতি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯তম ওই জাতীয় সম্মেলনের আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর ৩১ জুলাই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম রাব্বানী। তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাদের পদচ্যুত করে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

শোভন-রাব্বানীর পর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয় ও লেখককে ‘ভারমুক্ত’ করা হয়। এরপর থেকে জয়-লেখক ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।