গাজীপুরের টঙ্গীতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আশিক হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- সাব্বির, টুটুল ও বিল্লাল। শনিবার রাতে গাজীপুরার কোনাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯ জনকে আটক করেছে।

নিহত আশিক এরশাদনগর ৩ নম্বর ব্লকের সোলাইমান হোসেন সলু মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন চুরি থেকে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন আশিক। কয়েক মাস আগে থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাত্তার হোসেনের ছোট ভাই আশরাফুলের সঙ্গে আশিকের বিরোধ হয়। মোবাইল ফোন ছিনতাই নিয়ে এ বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল।

আহত সাব্বির হোসেন বলেন, আশিক তাঁর ছোট বোনের জামাই। শনিবার সন্ধ্যার পর আশিক, টুটুল, বিল্লালসহ তাঁরা চারজন টেকবাড়ি এলাকায় মাঠে বসে মুড়ি খাচ্ছিলেন। এ সময় আশিকের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে আশরাফুল জানান, ছিনতাইকারী ধরা হয়েছে। আশিককে সেখানে যেতে বলেন আশরাফুল। তাঁরা চারজন সেখানে যাওয়া মাত্রই আশরাফুলসহ বেশ কয়েকজন সবাইকে আটকে রড, ইট ও বাঁশ দিয়ে পেটাতে থাকে। টুটুল, বিল্লাল ও তিনি পালিয়ে আসেন। আশিককে তাঁরা ছুরিকাঘাত করে ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

আশিকের বাবা সোলাইমান হোসেন বলেন, 'আশিক আড়াই মাস আগে বিয়ে করেছে। আশিক কোনো খারাপ কাজে জড়িত ছিল না। সে অটোরিকশা চালাত। এর আগে এলাকায় একটি টেইলার্সে কাজ করত।'

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলচিল। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে আশিক, সাব্বির, টুটুল ও বিল্লালকে চোর সন্দেহে ধাওয়া করে লোকজন। এক পর্যায়ে তাঁদের ধরে মারধর করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আশিককে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মনে হয়, আশিকের মুখমণ্ডলে ইট ও রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

রোববার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, সাত্তার হোসেন ও আশরাফুলের এক ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কয়েক যুবক মারামারি করেছে। কি নিয়ে মারামারি হয়েছে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি।

সাত্তার হোসেন বলেন, তাঁর ছোট ভাই আশরাফুল একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। পাশাপাশি গাজীপুরা এলাকায় ইন্টারনেটের ব্যবসা করে। আরেক ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলে একদল ছিনতাইকারী এসে উপস্থিত লোকজনকে ছুরি হাতে নিয়ে ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ছিনতাইকারীরা আশরাফুল ও তাঁর ভাগনে রাকিবকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন তাঁদের ধরে পিটুনি দেয়। পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়। রাত ১১টায় তিনি জানতে পারেন একজন মারা গেছে।

এ দিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশিকের বন্ধুরা আশিকের হত্যাকারী সন্দেহে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েক যুবকের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন।