রংপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশ: ১১ মে ২০১৯     আপডেট: ১১ মে ২০১৯      

রংপুর অফিস

রংপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় জান্নাতি (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশু সন্তানের অকাল মুত্যুতে বাকরুদ্ধ বাবা-মা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

শিশুর স্বজন সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের পুরান লহ্মীপুর গ্রামের চাকুরীজীবি রেজাউলের (৩২) তৃতীয় শ্রেণি পড়ূয়া কন্যা জান্নাতি শুক্রবার সন্ধ্যায় কবরস্থানের ঘেরা পার হতে গেলে তার জরায়ুতে বাঁশের সুঁচালো অংশ ঢুকে যায়। এ সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানকার চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রাত ৯টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারী বিভাগে ভর্তি করা হয়।

ভর্তির পর শিশু সার্জারী ওয়ার্ডের মেঝেতে ফেলে রাখা হয় শিশুটিকে। তার রক্তক্ষরণ হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার রক্ত দেয়ার অনুরোধ করা হলে শিশু সার্জারী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক এ বিষয়ে গুরুত্ব দেননি। এতে করে ক্রমশ রক্তশূণ্যতায় নিস্তেজ হয়ে যায় জান্নাতি। 

হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে অস্ত্রোপচার করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগেই মৃত্যু হয় জান্নাতির।

জান্নাতির বাবা রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, দুর্ঘটনায় আমার মেয়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম ক্রমশই সে রক্তশূণ্য হয়ে পড়ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু সার্জারী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসককে বারবার বলেছিলাম আমার মেয়ের রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু তা তারা করেনি। এমনকি কোন নার্সও আমার শিশুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসেনি। শুধু মাত্র চিকিৎসকের গাফিলতিতে আমার সন্তান মারা গেল। চিকিৎসা না পেয়ে আর কোন বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয় সেজন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্টিত্মর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ বাবলু সাহা বলেন, আঘাত প্রাপ্ত হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণে শিশুটি শকে চলে যায়। রক্ত দেয়ার বিষয়টি শিশুটির পরিবারকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু শিশুটি শক থেকে ফিরে না আসায় আমরা তাকে বাঁচাতে পারিনি। আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় কোন গাফিলতি ছিল না।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ আব্দুল গণি সমকালকে বলেন, এ বিষয়ে আজ রোববার ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদি কেউ দোষী হয় তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।