ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা মৎস কর্মকর্তা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ০৯ জুলাই ২০১৯      

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

মৎস কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে নিয়ে যাচ্ছেন দুদকের কর্মকর্তরা- সমকাল

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছেন রেজাউল করিম সরকার নামে এক সহকারী মৎস কর্মকর্তা। মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর দুদকের সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি টিম অভিযান চালিয়ে উপজেলা মৎস অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

দূদক জানায়, পার্বতীপুর উপজেলায় জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি পুকুরের খনন কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪০লাখ টাকা ব্যয়ে মন্মথপুর ইউনিয়নের খুনিয়া পুকুর ও বড় উতাল পুকুরের খনন কাজ শেষ করেন একরামুল হক ও দীলিপ চন্দ্র। তাদের ৩০লাখ টাকার চেক ছাড় করা হলেও অবশিষ্ট ১০লাখ টাকার চেক ছাড় করা হচ্ছিল না। চেক ছাড় করতে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সরকার পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। মঙ্গলবার পুকুর খনন কাজ পরিচালনা কমিটির সদস্য তাজ নগর শেখ পাড়া গ্রামের সবুজ ইসলাম ঘুষের টাকা দিতে মৎস অফিসে গেলে দুদকের জালে ধরা পড়েন ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে সবুজ জানান, পার্বতীপুরের সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করতে চান না। পুকুর খননের চেক ছাড়ের জন্য তার কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ইতিমধ্যে তিনি তিন লাখ টাকা প্রদান করেছেন। পুকুরে ঘাঁস, পানি সেচ ও গাছ লাগানোর ১লাখ ৭০ হাজার টাকাও নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন মৎস্য কর্মকর্তা। তার পরেও অবশিষ্ট টাকার চেক ছাড় না হওয়ায় তিনি দুদকের হট লাইন ১০৬ নাম্বারে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে মঙ্গলবার দুপুরে সবুজ আরো ২০ হাজার টাকা ওই কর্মকর্তার হাতে তুলে দিতে আসেন। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা দুদক কর্মকর্তারা ঘুষের টাকাসহ রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করেন।

অভিযান পরিচালনা কারী দুদকের সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশ সমকালকে বলেন, সহকারী মৎস কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে ঘুষ নেওয়া সময় ২০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছে আরও ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। এ সময় দিনাজপুর দুদকের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান, উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম, সহকারী পরিদর্শক ওবায়দুর রহমান, শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততি চলছে।