রংপুর-৩ উপনির্বাচন

প্রতীক বরাদ্দের পরই সরগরম ভোটের মাঠ

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

রংপুর প্রতিনিধি

গণসংযোগে বিএনপি'র প্রার্থী রিটা রহমান- সমকাল

রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পরই আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতীক বরাদ্দ শুরু হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রার্থীরা সেখানে ভিড় জমান।

সকালেই আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমানকে ধানের শীষ, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমানকে দেয়ালঘড়ি, এনপিপির শফিউল আলমকে আম, গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহকে মাছ ও এরশাদের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে মোটরগাড়ি প্রতীক বরাদ্দ দেন। এরপর দুপুর আড়াইটায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী রাহগির আল মাহী সাদ এরশাদের পক্ষে লাঙ্গল প্রতীক নেন কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।

প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই গণসংযোগ শুরু করেন প্রার্থীরা। বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান কাচারিবাজার এলাকায় গণসংযোগ করে ধানের শীষে ভোট চান। স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় এলাকা, সেনপাড়া, কাচারিবাজারে গণসংযোগ চালান। এ ছাড়া দুপুর ২টার পর থেকেই সাদ এরশাদের পক্ষে লাঙল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং শুরু হয়।

বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান বলেন, 'ভোট নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। কারণ এবারও ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। আমরা ইভিএমে আস্থা রাখতে পারছি না। আমরা জানি, কম্পিউটারের মাধ্যমে ইভিএমে অনেক কিছু করে ফেলা সম্ভব। সাধারণ মানুষসহ মিডিয়ার অগোচরে ভোট নিয়ে অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে। গত নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি সেটা সবাই জানে। তবে এবারের নির্বাচনটি যেহেতু সরকার পরিবর্তনের নয়, তাই আশা করি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।'

গণসংযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার

গণসংযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ বলেন, 'রংপুরের মাটি ও মানুষের সঙ্গে লাঙ্গল প্রতীকের একটি সম্পর্ক ছিল। কিন্তু লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ দিতে যেহেতু তারা বাইরের মানুষকে নিয়ে এসেছে তাই রংপুরের মানুষ তাকে মেনে নিচ্ছে না। সে সুযোগটা আমি নেওয়ার চেষ্টা করব। আমি এরশাদের পরিবারের সন্তান ও রংপুরে থাকি। তাই ভোটাররা আমার পক্ষে থাকবে বলে আশা করি।'

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'জোটগতভাবে আমরা এ আসনে লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছি। তাই আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানাই। জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। ৫ অক্টোবর এ আসনে লাঙ্গল বিজয় হবে এবং গোটা দেশবাসী জানবে রংপুরের মাটি এরশাদের ঘাঁটি।'

এদিকে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন সমকালকে বলেন, 'পাঁচ রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে তাদের দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিধি ও তার পছন্দ অনুযায়ী মোটরগাড়ি প্রতীক দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনেই তাদের প্রচার চালাক। আচরণবিধি যেন ভঙ্গ না হয় সেজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনসংশ্নিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ করছেন। আগামী ৫ অক্টোবর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার লক্ষ্যে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।'