ইভিএমের পক্ষে ৫ প্রার্থী, বিএনপির বিরোধিতা

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

মেরিনা লাভলী, রংপুর

রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের পক্ষে ৫ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোর বিরোধিতা করা হচ্ছে। ইভিএম সম্পর্কে ভোটারদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে নির্বাচন কমিশন জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে সিটি করপোরেশন এলাকার ২৫টি ওয়ার্ড ও ৫টি ইউনিয়নের ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইভিএমের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে ভোট নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ১৭৫টি কেন্দ্রেই মব ভোটিং করা হবে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন জানান, ইভিএমের মাধ্যমে রংপুর সদরবাসী গত জাতীয় সংসদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ইভিএমে ভোটদান সহজ করতে আমরা প্রচার-প্রচারণাসহ সংশ্নিষ্টদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। প্রার্থীদের ইভিএমে ভোটগ্রহণের পদ্ধতি দেখানো হয়েছে।

এদিকে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণে ৫ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপত্তি না থাকলেও এর বিপক্ষে অনড় বিএনপি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদ এরশাদ (লাঙ্গল) বলেন, ইভিএম একটি আধুনিক যন্ত্র। ইভিএমের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে ভোটগ্রহণ করা যাবে। আমি ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে রয়েছি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (মোটরগাড়ি) বলেন, যেহেতু এটি সরকার গঠনের নির্বাচন নয়। তাই এ আসনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে আমি মনে করছি। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আমার কোনো দ্বিমত নেই।

খেলাফত মজলিসের প্রার্থী তৌহিদুর রহমান রাজু (দেওয়াল ঘড়ি) বলেন, সরকার একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে বলে প্রত্যাশা করছি। ইভিএম নিয়ে আমারও কোনো শঙ্কা নেই।

এ নির্বাচনে গণফ্রন্টের কাজী মো. শহিদুল্লাহ (মাছ) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী শফিউল আলম (আম) ইভিএম ব্যবহারের পক্ষেই তাদের মত দিয়েছেন। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান ও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিপক্ষে অবস্থান করছেন। গতকাল বুধবার নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ভোটাররা ইভিএম নিয়ে আস্থাহীনতায় ভুগছেন। ভোট দেওয়ার আগেই ভোট হয়ে গেছে এমন শঙ্ক রয়েছে ভোটারদের মনে। নির্বাচন কমিশন এ উপনির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা শুরু থেকেই এর ঘোর বিরোধিতা করেছি। কারণ ইভিএম ব্যালটের মতো স্বচ্ছ ফলাফল এনে দিতে পারে না। সরকার চাইলেই কারচুপি করে তাদের পক্ষে ভোট নিয়ে নিতে পারে।

ইভিএমের বিরোধিতা করে বিএনপিদলীয় প্রার্থী রিটা রহমান বলেন, ইভিএমের প্রতি আমার আস্থা নেই। আমার আস্থা জনগণের ওপর। তারা আমাকেই ভোট দেবেন। ইভিএমে কারচুপি হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল, রংপুর মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সামসুজ্জামান সামু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, যুবদল নেতা জহির আলম নয়ন, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জীমসহ অন্যরা।