স্কুলের মাঠে মাষকলাই চাষ প্রধান শিক্ষকের!

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৯      

ভবতোষ রায় মনা, ফুলছড়ি (গাইবান্ধা)

মাষকলাইয়ের গাছে ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ— সমকাল

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে মাষকলাইয়ের আবাদ করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ কারণে বিদ্যালয়টির প্রায় আড়াই‘শ’ শিক্ষার্থী খেলাধুলা, শরীর চর্চা ও বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাষকলাইয়ের গাছ দিয়ে পুরো মাঠ ছেয়ে গেছে। কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য সুব্যবস্থা থাকলেও তা বন্ধ করে দিয়ে জমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠের দু’দিকে দুইটি শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ঘর, একপাশে স্কুলের মেইন গেট ও অন্যপাশে প্রাচীর।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনোয়ারা বেগম জানায়, শিক্ষকরা স্কুলের মাঠে মাষকলাই চাষ করায় আমাদের খেলাধুলার অসুবিধা হচ্ছে। মাষকলাই চাষ করার সময় আমরা প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করেছিলাম, মাঠটা যেন বন্ধ করা না হয়। কিন্তু আমাদের কথা তিনি রাখেননি।

স্থানীয় অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগে শারীরিক শিক্ষা (পিটি) প্রশিক্ষণ করানো বাধ্যতামূলক থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা আগে স্কুলের মাঠে খেলাধুলা করলেও এবার আর তা পারছে না।

উপজেলার উদাখালী গ্রামের শিক্ষার্থীর অভিভাবক আনু মিয়া ও নওশা মিয়া জানান, খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে খেলার মাঠে মাষকলাই চাষ করা হয়।

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী (পিয়ন) আব্দুর রহমান বলেন, আমি স্যারকে গত বছরও বলেছি মাঠে আবাদ করা যাবে না। কিন্তু তিনি আমার কোন কথা শোনেননি।

বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি জানান, গত দুই মাস আগে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এ সময়েই এ ঘটনা ঘটে। এটি বিদ্যালয়ের স্বার্থেই করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল বলেন, ছাত্রীদের অ্যাসেম্বিলির জায়গা রয়েছে। কাজেই তাদের অসুবিধার হওয়ার কথা নয়।

তিনি আরও বলেন, মাঠের বিভিন্ন অংশে বিগত বন্যায় পলি পরে। ওই আলগা মাটি বৃষ্টিতে যাতে ধুয়ে না যায় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুধুমাত্র এক মৌসুমের জন্য মাষকলাই চাষ করা হয়েছে। আমি একক দায়িত্বে মাষকলাইয়ের চাষ করেনি। কমিটির সদস্যরা এতে মতামত দিয়েছেন। কলাই হওয়ার পর এগুলো বিক্রি করে সেই টাকা বিদ্যালয়ের কাজেই খরচ করা হবে।

বিদ্যালয়ের মাঠে মাষকলাই চাষের বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।