মিঠাপুকুরে নৈশপ্রহরীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২০   

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের মিঠাপুকুরে চোর সন্দেহে নৈশপ্রহরী তছলিম উদ্দিন (৫০) কে পিটিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার রাতে উপজেলার শঠিবাড়ীতে প্রায় এক ঘণ্টার এই অবরোধ ও বিক্ষোভে অংশ নেয় শতাধিক মানুষ। 

বিক্ষোভের কারণে শনিবার রাতে মহাসড়কের দুইপাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। গ্রামে ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরার পথের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। মিঠাপুকুর থানার ওসি জাফর আলী বিশ্বাস ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয় জনতা। 

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার শঠিবাড়ীহাটে মুদিবাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন তছলিম উদ্দিন। শনিবার ভোরেসাহেব আলী নামে একজনের মুদির দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা রমজান আলী (১৮) নামে এক চোরকে আটক করেন। সে পাশের পীরগঞ্জ উপজেলার জীবনানন্দ গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে। উপস্থিত লোকজনকে রমজান মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জানায়, নৈশপ্রহরী তছলিমও ওই চুরির সাথে জড়িত। স্থানীয় জনতা ওই দুইজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে তছলিম উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন দুপুর ১২ টার দিকে তিনি মারা যান।

দোকান চুরি এবং গণপিটুনিতে নৈশপ্রহরী হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। নিহত তছলিম উদ্দিনের ছেলে ইয়াসিন আলী ১২ জনের জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় রোববার পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে যে দোকানে চুরি হয়েছিল সেই দোকানের মালিক খায়ের মিয়ার দায়ের করা চুরির মামলায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

এ দিকে প্রশাসনিক কারণে মিঠাপুকুর থানার ওসি জাফর আলী বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। গণপিটুনিতে নৈশপ্রহরীর মৃত্যুর সাথে ওসির প্রত্যাহারের কোনো সর্ম্পক নেই বলে রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার রোববার সমকালকে নিশ্চিত করেছেন। 

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার সমকালকে বলেন, প্রশাসনিক কারণে মিঠাপুকুর থানার ওসি জাফর আলী বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। গণপিটুনিতে নৈশপ্রহরীর মৃত্যুর ঘটনার সাথে ওসির প্রত্যাহারের কোনো সর্ম্পক নেই। 

তিনি আরও বলেন, দোকান চুরি এবং গণপিটুনিতে নৈশপ্রহরী হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। চুরির মামলায় ইতোমধ্যে দুইজনেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চলছে।