দিনাজপুরে শিশু জিহাদ হত্যা, বাবা-সৎ মাসহ গ্রেপ্তার চার

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   

রংপুর অফিস

১২ বছরের শিশু জিহাদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রায় দুই মাস আগে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় নৃশংসভাবে খুন হয় জিহাদ। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে  মঙ্গলবার শিশুটির বাবা জিয়াউর রহমান, সৎ মা আলেয়া মনি, তার বাবা আইয়ুব আলী এবং পিকআপ চালক ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পিবিআই কার্যালয়ে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন শিশু জিহাদ হত্যার রহস্য উন্মোচন এবং চার জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গেছে, জিহাদের বাবা জিয়াউর এবং সৎ মা আলেয়ার সঙ্গে শিশু জিহাদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই তারা ঘুমন্ত জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে ইলেক্ট্রিক ওয়াটার হিটারে পানি গরম করে জিহাদের মুখ বিকৃত করে ফেলা হয়। পরদিন সকালে লাশ কাপড়ে পেচিয়ে ট্রাংকে ঢোকানো হয়। এরপর একটি পিকআপ ভাড়া করে সেই ট্রাংক ফেলে দেওয়া হয়। ১৫ জুলাই রাতে নীলফামারীর ডিমলা থানার রামডাঙ্গা ফরেস্ট ও সিংগাহাড়া নদীর তীর ট্রাংকবদ্ধ জিহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

লাশটি ঝলসানো ও অর্ধগলিত থাকায় তখন পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। প্রায় দুই মাস পর শিশু জিহাদের পরিচয় ও হত্যা রহস্যের উদঘাটন হলো। জিহাদের মা উম্মে কুলসুম বলেন, নির্যাতন করায় স্বামী জিয়াউর রহমানকে তালাক দিয়েছিলেন তিনি। জিহাদ তার সঙ্গেই থকাত। খুন হওয়ার আগে কিছুদিন আগে জিহাদ তার বাবার কাছে যায়। এরপর থেকে জিহাদের সন্ধান মিলছিল না। ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।