উলিপুরে ৬২ হাজার পরিবারকে আর্থিক ও খাদ্য নিরাপত্তা দিচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   

মোন্নাফ আলী, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় গ্রামের অনগ্রসর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির ৬২ হাজার পরিবারকে আর্থিক ও খাদ্য নিরাপত্তা দিচ্ছে সরকার। এতে সরকারের প্রতি বছর ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর, খাদ্য বিভাগ ও এাণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি বাস্থবায়ন করা হচ্ছে। ফলে পিছিয়ে পড়া গ্রামের মানুষের মধ্যে এখন আর নিত্য অভাববোধ দেখা দিচ্ছে না। বদলে গেছে গ্রামের মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থা, পাল্টে গেছে অভাবী জনপদের চিত্র।

জানা গেছে, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় ১৩২টি কর্মসূচির অধিনে গ্রামঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগেষ্ঠিকে এগিয়ে নিতে সারাদেশের মত উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৪টি অধিদপ্তর ১৫টি কর্মসূচির মাধ্যমে ৬২ হাজার ৩০০ হত দরিদ্র পিছিয়ে পড়া পরিবার গুলোকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলেছে সরকার। সুবিধাভোগী এসব পরিবারের মধ্যে নারী পরিবারের সংখ্যাই বেশি।

উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর ৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২৭ হাজার ৮৫ পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তাসহ ভাতা সুবিধা প্রদান করে আসছে। এসব প্রকল্প বাস্থবায়ন করতে প্রতি বছর ব্যয় হচ্ছে ২৮ কোটি ২৩ লাখ ৬৯হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতা ভোগী (নারী-পুরুষ) ১৩ হাজার ৮৭০ পরিবার। বিধবা ভাতা সুবিধাভোগী নারী ৬ হাজার ১২৯ পরিবার। প্রতিবন্ধি ভাতা সুবিধাভোগী ৬ হাজার ৯৫ পরিবার। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ভোগী ৭৩১ পরিবার। প্রতিবন্ধি শিক্ষা উপবৃত্তি সুবিধাভোগী ১৪৬ পরিবার। অনগ্রসর জনগেষ্টি দলিত সম্প্রদায় ভাতা ভোগী ৬৬ পরিবার। অনগ্রসর জনগেষ্ঠির সন্তানদের উপ-বৃত্তি ভোগী ৪৮ জন।

উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর ৩টি কর্মসূচির মাধ্যমে ৪ হাজার ৭৩১ পরিবারকে (নারী ও শিশু) আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে। এর মধ্যে ভিজিডি প্রকল্পের সুবিধাভোগী ৩ হাজার ২৪৯টি পরিবারের মাঝে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে ১১৬৪ মেট্রিক টন চাল প্রদান করে আসছে। যা টাকায় ১৬ কোটি ৩৪ লাখ ৬ হাজার ৮৮০ টাকা। মাতৃত্বকালীন (প্রসূতি) ভাতা ভোগী ১০৯১ জন। এর জন্য প্রতি বছর ব্যায় হচ্ছে ৮৭ লাখ ৪৯ হাজার ১০৪ টাকা। পৌর (ল্যাবটেক্টিং মাদার) এলাকার গরিব-দুস্থ-প্রসূতি মা ভাতা ভোগী ৩৫০ জন প্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে বছরে ব্যায় হচ্ছে ২৮ লাখ ৪ হাজার ২০০ টাকা।

এদিকে উপজেলা খাদ্য বিভাগ, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির (১০ টাকা কেজির চাল) মাধ্যমে ৩১ হাজার ৮১৬ পরিবারকে ৬ মাস ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হচ্ছে। মোট চালের পরিমাণ ৪৮৬ মেট্রিক টন যার মূল্য ৪ কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

এ ছাড়াও উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন, ত্রাণ বিভাগ, কর্মসৃজন প্রকল্প, টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও আপদকালীন জিআর প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

অপরদিকে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ড টিসিসি, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, সমাজ সেবা অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর ও উপজেলা যুব উন্নয়ন বিভাগ, বেকার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক দরিদ্র নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বল্প সুদে ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যান্নয়নে কর্ম সংস্থান করে আসছে বলে জান গেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, এ সব প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৭৫ ভাগ হত দরিদ্র পিছিয়ে পড়া মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্য নিরাপর্ত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধি ভাতা যোগ্যদের অনলাইনে আবেদন নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার আবেদন পড়েছে। এটা সম্পন্ন হলে শতভাগ মনুষ ভাতা পাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নুর এ জান্নাত বলেন, উদ্দ্যোগটি কার্যকরী এবং ভালো উদ্দ্যোগ। তবে টাকার পরিমাণ খুব বেশি না হলেও তারা উপকৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই শতভাগ মানুষকে দরিদ্র মানুষ ও কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।