সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে মেসেজিং, নাম্বার আদান-প্রদান ঠিকঠাক ভাবেই চলছিলো। হঠাৎ একদিন আপনার অনুমতি নিয়ে ফোন করে বসলো। এরপর কথা বলতে গিয়েই দুজনেই ভাষা হারিয়ে ফেলছেন!

এতদিন যখন মেসেজ করতেন, তখন কথার বন্যা বইয়ে যেতো। উল্টো প্রান্ত থেকে হঠাৎ শোনা 'আই লাভ উ'তেই বদলে গেল সম্পর্কের রসায়ন। রাত জেগে একাধিক মেসেজ করেও যেখানে মনের কথা বোঝানো যাচ্ছিল না, সেদিনের ওই ছোট্ট কথাতে অনেকটা কিছু বলা গেল। সেই সঙ্গে বাড়লো সম্পর্কের উষ্ণতা। আর মনের দিক থেকেও যে একটু বদল এল তা অস্বীকার করে উপায় নেই। 

শুধু তাই নয়, মেসেজ যেমন সব কিছু লিখে বোঝানো যায় না, তেমনই বেশি কথায় সমস্যা বাড়ে। কিন্তু একটা ফোনই সব সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে।

কেন ফোন করবেন?

ধরুন, আপনি বাড়ি থেকে বেশ দূরে থাকেন। বন্ধুদের সঙ্গে অনেকদিন পরপর দেখা-সাক্ষাৎ হয়। আর একবার দেখা হলে কথা শেষ হতেই চায় না। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া দূরকে নিকট করেছে ঠিকই, কিন্তু আজকালকার দিনে লম্বা টেক্স টাইপ করে গল্প করার সময় কারোর নেই। আর তাই বন্ধুর সঙ্গে সময় ঠিক করে নিয়ে কথা বলুন। এতে মনও ফুরফুরে থাকবে। সেই সঙ্গে সময়ও বাঁচবে।

ভুল বোঝার সুযোগ থাকে না

সারাদিনের ব্যস্ততার পর অনেকেই আর বাড়ি ফিরে ফোনের দিকে তেমন নজর দেন না। আর তখন কেউ মেসেজ করলেও উত্তর দেওয়ার কথা খেয়াল থাকে না অনেক সময়ই। এবার যিনি মেসেজ পাঠিয়েছেন তিনি ভাবছেন, ওই ব্যক্তি তাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। আর তাই সেখান থেকে অযথাই ভুল ধারণা জন্মায়। এর থেকে একটা ফোনকল অনেক বেশি নিরাপদ। ভুল বোঝার কোনও সুযোগ থাকে না।

কাজে এনার্জি আনে

অনেকদিন পর পর যদি প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে একটু মন খুলে কথা বলেন, তাহলে কিন্তু কাজে এনার্জি বাড়ে। সেই সঙ্গে একটু পিএনপিসি করলে কার না আর মন ভালো হয়! সেই সঙ্গে নতুন উদ্যোমে কাজও শুরু করা যায়। মনের মধ্যে জমে থাকা কথা বলে ফেলার মতো সুখ কিছুতে নেই।

সম্পর্ক অটুট থাকে

মাঝেমধ্যে একটা ফোন করলে কিন্তু সম্পর্কেও উন্নতি হয়। দূরে থাকা প্রেমিক প্রেমিকা যতই সারাদিন টেক্সটের ভরসায় থাকুন না কেন, সপ্তাহন্তে একে অপরকে ফোন কলই ভুলিয়ে দেয় অনেক দুঃখ। প্রিয় মানুষের গলা শুনলেও থাকে মানসিক শান্তি। আজকালকার দিনে ব্যস্ততার দেহাই দিয়ে কেউ কারোর সুযোগ রাখ্ন না। সেদিক দিয়ে একটা ফোনই বদলে দেয় সবকিছু। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয়।

পজিটিভিটি বাড়ে

সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা টেক্সট ম্যাসেজে অনেকেই স্বল্পে কোনও লৌকিকতা সেরে ফেলেন। নববর্ষ, জন্মদিনের শুভেচ্ছা সবই এখন আসে ভার্চুয়ালি। ধরা যাক কারোর কোনও খুশির খবরে আপনি অভিনন্দন না লিখে একটা ফোন করলেন। এরপর সেই ব্যক্তিকেই জিগ্যেস করুন। মনের দিক থেকে খুব খুশি হবেন উনি।

মন্তব্য করুন