নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মো. পারভেজ হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। 

নিহত পারভেজ উপজেলার আক্তারামপুর গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও চারজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌছে প্রেমিকা স্বপ্না আক্তার (২২), তার ভাই (২৫) ও বাবা শাহ আলমকে আটক করেছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়রা জানায়, বেগমগঞ্জের ছয়ানি ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামের নজির আহমদের ছেলে মো. সুজনের (২৫) সঙ্গে পাশ্ববর্তী খালিশপুর গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে স্বপ্না আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে সোমবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কল করে সুজনকে বাড়িতে ডেকে নেন স্বপ্না আক্তার। এসময় অনৈতিক কাজ করার অপবাদ দিয়ে স্বপ্নার পরিবারের লোকজন সুজনকে মারধর করে বাড়িতে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে রাতে সুজনের পরিবার স্বপ্নার বাড়িতে সুজনকে আনতে যান। 

সুজনের বড় ভাই রিয়াজ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পরিবারের লোকজন স্বপার বাড়িতে গেলে তার বাবা ও ভাইয়েরা ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় তাদের মেয়েকে বিয়ে করতে হবে বলে প্রস্তাব দেন। এক পর্যায়ে তারা সুজনকে আনতে ব্যর্থ হয়ে রাতে ওই বাড়িতে থেকে চলে আসলেও শাহ আলম তার লোকজন নিয়ে সুজনকে আটক করে রাখেন। মঙ্গলবার সকালে পরিবার ও সুজনের বন্ধুরা মিলে ১৫-২০ জন শাহ আলমদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। এনিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শাহ আলম, তার ছেলে ও মেয়েরা অর্তকিতভাবে ধারালো দা ও বটি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এসময় তারা রিয়াদ, পারভেজ হোসেন ও আজাদ হোসেনসহ ৫জনকে কুপিয়ে জখম করেন। আহতদের মধ্যে পারভেজ হোসেনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদের হাসপাতালের ১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, নিহত যুবকের পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। 

বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান সিকদার বলেন, প্রেম সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে খালিশপুর গ্রামে প্রেমিক যুবকের এক বন্ধু ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৪-৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩ জনকে আটক করেছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।