শিক্ষার্থীদের অভিভাবককে উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার নাম ফিরোজ কবীর। গত মঙ্গলবার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

সিআইডি বলছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের প্রধান এই যুবক।

এ ব্যাপারে জানাতে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ফিরোজ কবীরের নেতৃত্বে তিন-চারজনের একটি দল উপবৃত্তি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে আসছিল। নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কৌশলে তারা সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলত। আস্থা অর্জনের উদ্দেশ্যে তারা বলত, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর কাউকে বলবেন না। তবে তারা ওই পিন নম্বরের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা যোগ-বিয়োগ বা গুণ-ভাগ করে ফল জানাতে বলত। এভাবে তারা পিন কোড জেনে যেত। আর টার্গেট ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা কৌশলে স্থানান্তর করে নিত। পরে নিজেদের ব্যবহূত ফোন নম্বরগুলো পাল্টে নতুন নম্বর দিয়ে ফের প্রতারণা শুরু করত। এমন একটি প্রতারণার ঘটনায় ঢাকার লালবাগ থানায় দায়ের একটি মামলায় ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, এই চক্রের সদস্যরা টার্গেট ব্যক্তিকে ফোন করে বলত- করোনাকালে সরকার যে আড়াই হাজার টাকা উপবৃত্তি দিচ্ছে তা কি আপনি পেয়েছেন? অপর প্রান্তের ব্যক্তি না বলার পর তারা বলত- আপনি কি টাকা পাওয়ার জন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর দিয়েছেন? এবারেও না উত্তর পাওয়ার পর তারা বলত- আপনার এই নম্বরে কি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট আছে? কোনো কোড পাঠালে আপনি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে জানাতে পারবেন? এভাবে ধীরে ধীরে মানুষকে ফাঁদে ফেলত তারা।