সাহিত্য ও সংস্কৃতি

আলতাফ মাহমুদ পদক পেলেন দুই গুণী

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০১৮     আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

নাট্যজন আলী যাকেরের হাত থেকে বৃহস্পতিবার পুরস্কার গ্রহণ করছেন দুই গুণী ব্যক্তি সৈয়দ হাসান ইমাম এবং অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার- সমকাল

অমর একুশের গানের সুরকার আলতাফ মাহমুদের অন্তর্ধান দিবস ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন সন্ধ্যায় শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালে এ পদক পেয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক সৈয়দ হাসান ইমাম এবং দেশবরেণ্য অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার।

বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এই পদক প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউণ্ডেশনের আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাট্যজন আলী যাকের। সভাপতিত্ব করেন শহীদ জায়া সারা আরা মাহমুদ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নাট্য ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, মঞ্চকুসুম খ্যাত অভিনেত্রী শিমূল ইউসুফসহ সংস্কৃতি অঙ্গণের অনেকে। 

আয়োজনের শুরুতেই ছিল উদীচীর পরিবেশনায় আলতাফ মাহমুদের গান। শিল্পীরা আলতাফ মাহমুদের 'ঘুমের দেশে ঘুম ভাঙাতে', 'আমি মানুষের ভাই স্পার্টাকাস' ও 'রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনও করলি বাঙালি' গানগুলো পরিবেশন করেন। 

এর পরই ছিল পদক প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধান অতিথি আলী যাকের দুই গুণী শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম ও ফেরদৌসী মজুমদারের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন। পদক প্রদানের পাশাপাশি তাদের উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া ও দশ হাজার টাকা মূল্যমানের সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

আলী যাকের বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা যোদ্ধায় পরিণত হয়েছিলেন। আলতাফ মাহমুদ ছিলেন তাদের অন্যতম। যিনি সংগীতশিল্পীর জীবন যাপন করার চেয়ে যোদ্ধার জীবন বেছে নিয়েছিলেন।

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, আলতাফ মাহমুদকে আমরা স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। শুরম্নতে তিনি রাজি হননি। পরে রাজি হন। তবে তার যাওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বর মাসে। কিন্তু এর মধ্যে পাকিস্ত্মানি সেনারা তাকে তুলে নিয়ে যায়। আলতাফ মাহমুদের সবগুলো নখ তুলে ফেলা হয়েছিল। ভেঙে ফেলা হয়েছিল হাঁটু। সহযোদ্ধাদের নাম বলে দিলেই কিন্তু তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো। কিন্তু তিনি তা করেন নি। 

ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, আলতাফ মাহমুদের প্রয়াণের দিনে শোকে মুহ্যমান হয়ে থাকা উচিত নয়। তিনি যে কত বড় সুরস্রষ্টা ছিলেন, 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রম্নয়ারি' গানটা শুনলেই বোঝা যায়। সংগীত মানুষকে এক অন্য জগতে নিয়ে যায়, একটা অন্য রকম বন্ধন তৈরি করে দেয়। যতদিন এই দেশ থাকবে ততদিন আমরা তাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা করব। তার নামে পদক পেয়ে খুশি হয়েছি। তাকে অমর করে রাখার জন্য শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী হাসান আরিফ।

আলতাফ মাহমুদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২০০৫ সালে এ ফাউণ্ডেশন গঠিত হয়। শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ও তার একমাত্র সন্তান শাওন মাহমুদ জানান, এ পর্যন্ত দেশের ১৯ জন গুণীজনকে পদক প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানিয়েছে শহীদ আলতাফ মাহমুদের পরিবারের সদস্য এবং ক্রাক পতাটুনের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই ফাউণ্ডেশন।