কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী আর নেই। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজ বাসায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন  (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। 

বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বুলবুল চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন চিত্রগ্রাহক কামরুল হাসান মিথুন।

তিনি জানান, মাস ছয়েক আগে বুলবুল চৌধুরীর ক্যান্সার ধরে পড়ে। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সারওয়ার আলমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে থাকেন। কিন্তু ক্যান্সার তার শ্বাসযন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ে।

বুলবুল চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট, গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে। ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে একুশে পদক পান তিনি। ২০১১ সালে পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার।

অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত বুলবুল চৌধুরী লেখাপড়া করেন জগন্নাথ কলেজে (এখন বিশ্ববিদ্যালয়)। সেখানে এক প্রতিযোগিতায় ‘জোনাকি ও সন্নিকট কেন্দ্র’ গল্পের জন্য দ্বিতীয় পুরস্কার পান তিনি।

তার প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'টুকা কাহিনী'। এই গ্রন্থের মাধ্যমে সাহিত্য অঙ্গনে সাড়া ফেলতে সক্ষম হন তিনি।

লেখক বুলবুল চৌধুরী তার অধিকাংশ লেখায় গ্রামীণ জীবনকে নানা আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন। নগরায়নের জটাজালও উঠে এসেছে তার লেখালেখিতে। নগরের নানা রেখা-উপরেখা ছুঁয়ে গেলেও গ্রামীণ অভিজ্ঞতা তার প্রধান অবলম্বন, খোলা চোখে জীবন দেখা। সেই জীবনের ভেতর দিয়ে বুলবুল চৌধুরী ঢুকে পড়েছিলেন মানুষের অন্দরমহলে। প্রাণস্পর্শী দরদে বিন্যস্ত করেছেন সাহিত্যে।

লেখালেখির বাইরে পেশাগত জীবনে বুলবুল চৌধুরী সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। কাজ করেছেন দৈনিক সমকালসহ দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন দৈনিকে। 

তার প্রকাশিত ছোট গল্পগ্রন্থ হলো, 'টুকা কাহিনী', 'পরমানুষ', 'মাছের রাত' ও 'চৈতার বউ গো'। উপন্যাসের তালিকায় আছে 'অপরূপ বিল ঝিল নদী', 'কহকামিনী', 'তিয়াসের লেখন', 'অচিনে আঁচড়ি', 'মরম বাখানি', 'এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে', 'ইতু বৌদির ঘর' ও 'দখিনা বাও'। তার আত্মজৈবনিক দুটি গ্রন্থ হলো, 'জীবনের আঁকিবুঁকি' ও 'অতলের কথকতা'।

এছাড়া বুলবুল চৌধুরী কিশোরগ্রন্থ 'গাঁওগেরামের গল্পগাথা', 'নেজাম ডাকাতের পালা', 'ভালো ভূত' ও 'প্রাচীন গীতিকার গল্প'-এর রচয়িতা।