উজান বই আলোচনা প্রতিযোগিতায় ২০২১ বিজয়ী ও নির্বাচিতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজন এবং নির্বাচিত ১০জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-গুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘দেশের মানুষের জ্ঞানভাণ্ডার এবং চেতনার জগৎকে সমৃদ্ধ করার জন্য সংস্কৃতি-সাহিত্য-শিল্প এবং ভাবের আদান-প্রদানের কোনো বিকল্প নেই। 

তিনি বলেন, ‘উজান যেভাবে কাজ করেছে তা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। আগামীতে তরুণ ও নতুন প্রজন্ম তাদের নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উজানের মতো নতুন উদ্যোগ নিয়ে দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি ও শিল্পকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদী।’ এক্ষেত্রে সরকারের এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করনে তিনি।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত দুই দেশের সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরে এই ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

লি জ্যাং-গুন বলেন, আগামীতেও কোরিয়ার সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা উপাদান নিয়ে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের এবং বাংলা ভাষার সাহিত্যের কোরিয়ার ভাষায় অনুবাদের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা অনুবাদের নানা দিক তুলে ধরেন। বিশ্বমানবের প্রথম ভাষা অনুবাদ বলেই জানান তিনি। কোরিয়া এবং বাংলাদেশের সাহিত্যের অনুবাদের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি সামনের দিনগুলোতে উদ্যোগ নেবে বলে আশ্বস্ত করেন। এক্ষেত্রে কোরিয়াকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতে বাংলা একাডেমি নতুন লেখক, অনুবাদক এবং তরুণ লেখকদের জন্য নতুন প্রকল্প ও পরিকল্পনা নিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠান এবং প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান উজানের সমন্বয়ক সুলতান আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠক সমাজের একটা নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজকে তরান্বিত করতে চাই। আমাদের সমাজের মানুষের মধ্যে একরৈখিক এবং একমুখী চিন্তার একটা বড় প্রবণতা রয়েছে। এই প্রবণতা দেশ ও সমাজের জন্য সব সময় সুখকর হয় না। আমরা মনে করি আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য বহুত্ববাদী মনোভাব বড় জরুরি। বহু সংস্কৃতিকে জানা এবং অন্যের সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার মানসিকতা আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি ও মানবিকতাবোধ আরও বেগবান ও সম্প্রসারিত করবে বলেই আমরা আশাবাদী। এই লক্ষ্যেই আমরা নানা দেশের সাহিত্যের নতুন নতুন অনুবাদ তুলে ধরছি।’

এবার এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন যথাক্রমে সরোজ মোস্তফা, ইলিয়াস বাবর এবং মাজেদা মুজিব। এই প্রতিযোগিতায় যাদের আলোচনা নির্বাচিত হয়েছে তারা হলেন- মিলু হাসান, জাহিদ সোহাগ, সিরাজুম মুনিরা, সম্প্রীতি মল্লিক, অলাত এহসান, হারুন সুমন, রুম্মানা জান্নাত, ফাহাদ হোসেন, হাসান জামিল, আবিদা তাহসিন প্রমি।

বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীকে ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান ১৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীর হাতে ১০ হাজার টাকার চেক এবং অভিনন্দনপত্র তুলে দেন বিশিষ্ট অতিথিরা। আর নির্বাচিতদের প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা মূল্যমানের বইয়ের কুপন।   

কোরীয় ভাষার সাহিত্যের অনুবাদ নিয়ে ছিল এবারের উজান বই আলোচনা প্রতিযোগিতা। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘উজান’ থেকে প্রকাশিত ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ সম্পাদিত ‘কোরিয়ার গল্প’ এবং ছন্দা মাহবুবের অনুবাদে ‘কোরিয়ার কবিতা’ বই দুটি ছিল এবারের আয়োজন। বই দুটির প্রকাশনা এবং প্রতিযোগিতা আয়োজনে সহযোগিতা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান লিটারেচার ট্রান্সলেশন ইনস্টিটিউট কোরিয়া। 

গত কয়েক মাস ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে আলোচনা পাঠিয়েছেন লেখালেখি এবং পাঠাপাঠের যুক্ত অনেকেই। সেসব লেখা থেকে বাছাই করে তিনজনকে সেরা নির্বাচন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী আরও ১০ জনের আলোচনাকে নির্বাচিত হিসেবে বাছাই করা হয়। বাছাই ও নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ায় বিচারক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক সুব্রত বড়ুয়া, কবি ও অনুবাদক কুমার চক্রবর্তী, অনুবাদক রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, কবি সোহেল হাসান গালিব এবং অনুবাদক শিউলি ফাতেহা।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও নির্বাচিতদের লেখাগুলো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার পত্রপত্রিকা কিংবা সাময়িকীতে বাংলা, ইংরেজি এবং কোরিয়ান ভাষায় শিগগিরই প্রকাশিত হবে।