অমর একুশে গ্রন্থমেলার দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ফেব্রুয়ারিতেই গ্রন্থমেলা আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলা একাডেমি।

সোমবার বিকেলে সমকালকে এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে কভিড- ১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি বইমেলা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হচ্ছে না। আপাতত দুই সপ্তাহ স্থগিত থাকবে বইমেলা। 

সোমবার বিকেল থেকে প্রকাশকদের অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দেন, ‘আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে এই মেলা।’

তবে প্রকাশকদের এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা সমকালকে বলেন, ‘আজকে (সোমবার) বিকেলেও সংস্কৃতি সচিব মহোদয়ের সঙ্গেও কথা হল আমার। এখনও মেলা আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কিছু জানে না। বাংলা একাডেমিও কোনো চিঠি পায়নি। তাই ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হচ্ছে এ কথা বলা যায় না।’

তবে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এই ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও সমকালকে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে যদি বইমেলা না হয়, তবে তো তার তাৎপর্য থাকে না। বইমেলা এই ফেব্রুয়ারিতেই হবে।’ 

বইমেলা আয়োজনের জন্য বাংলা একাডেমির সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রকাশকদের টিকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মুহম্মদ নূরুল হুদা। 

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, মেলা আয়োজকদের সবার কোভিড সার্টিফিকেট থাকতে হবে। সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে। আমরা আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলেছি, দ্রুত টিকা নিয়ে নিতে। যারা টিকা নিতে পারছেন না, তাদের বাংলা একাডেমির নিজস্ব ব্যবস্থাপনার টিকা দেওয়া হবে। একইরকমভাবে প্রকাশকদেরও আমরা বলেছি, তাদের তালিকা দিতে, যেন তাদেরও টিকার আওতায় আনতে পারি।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এ বিষয়ে কথা বলতে পরে সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুরকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান সমকালকে বলেন, ‘বইমেলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। হলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’

এদিকে বইমেলার অন্যতম আয়োজক বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি চাইছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজন করতে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে একমত পোষণ করে সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ সমকালকে বলেন, তারাও টিকাগ্রহণ করে বইমেলা এই ফেব্রুয়ারি মাসেই আয়োজন করতে চান।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে হাত-পা গুঁটিয়ে বসে থাকলে চলবে না।  সরকারের নীতি হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা চালু রাখা। আমরা সে নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বইমেলা আয়োজন করতে চাই এই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে। আমরা আশা করছি, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বইমেলা কবে হবে তার দিনক্ষণ জানিয়ে দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নেমে আসবে। আগামী ৩-৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লটারি করে বাংলা একাডেমি আমাদের স্টল বরাদ্দ দিয়ে দেবে। স্টল সাজানো, বই ছাপানোসহ সার্বিক প্রস্তুতিতেও আমাদের দুই সপ্তাহ সময় লাগে।’

১৯৭২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির গেইটে চট বিছিয়ে বই বিক্রি শুরু করেন মুক্তধারা প্রকাশনীর মালিক চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৭৭ সালে তার সঙ্গে আরও অনেকে যোগ দেন।

১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে এ বইমেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। পরের বছর মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি।

১৯৮৩ সালে মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ নামে এ মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা আর করা যায়নি। পরের বছর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সূচনা হয় ‘অমর একুশে বইমেলা’র। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের মাস ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের এই বইমেলা এখন বাঙালির মননের মেলায় পরিণত হয়েছে।