করোনা ভ্যাকসিন

চলছে পরীক্ষা ও প্রয়োগ

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

করোনার আঘাতে জর্জরিত বিশ্ব প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে মুক্তির আশায় চলছে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া। প্রতিনিয়ত রূপ বদলানো করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো। চীন, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এবং বড় ওষুধ কোম্পানিগুলো কাজ করছে ভ্যাকসিন নিয়ে। প্রাণীর শরীরে সফলভাবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর এখন চলছে মানবদেহে ট্রায়াল।

বিশ্বে এই মুহূর্তে অসংখ্য ল্যাবে শত শত ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা হচ্ছে, তবে ৪০টি ভ্যাকসিন আছে হিউম্যান ট্রায়াল পর্যায়ে। ১০টি ভ্যাকসিন তৃতীয় ধাপে বড় জনগোষ্ঠীর ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে যার মধ্যে চীন ও রাশিয়া ৫টি ভ্যাকসিন সীমিত আকারে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে আছে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার করোনা প্রতিষেধক। রাশিয়ার 'স্পুটনিক-ভি' নিয়ে শুরু হবে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা। করোনাভাইরাস রুখতে তাদের দ্বিতীয় টিকা 'এপিভ্যাককরোনা'ও শিগগিরই আসছে। প্রায় ৬০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি সম্ভাব্য টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এই টিকার বিশেষত্ব, এর একটিই ডোজ কার্যকর হবে। আগামী বছরে টিকার ১০০ কোটি ডোজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

এ বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে প্রথম করোনার প্রতিষেধক আবিস্কারের দাবি করেছে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস। গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা পশুর শরীরে এই ভ্যাকসিনের সফলতা পেয়েছে এবং একইভাবে মানবদেহেও এর সফলতা পাওয়া সম্ভব। চলতি মাসেই মানবদেহে করোনা ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য সংস্থাটি সরকারের অনুমোদন চাইবে বলে জানা যায়।

আশঙ্কার কথ হলো, দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের ধনী দেশগুলো সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের উৎপাদন সক্ষমতার ৫১ শতাংশই কিনে ফেলেছে। ওই দেশগুলোতে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষের বসবাস। করোনার টিকা নিয়ে ধনী দেশগুলোর কাড়াকাড়ির কারণে ২০২২ সালের আগে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬১ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিন পাবে না বলে আশঙ্কা করেছে অক্সফাম। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে প্রচেষ্টা চলছে, ২০২১ সালের মধ্যে দুই বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার। এর মধ্যে এক বিলিয়ন ডোজ বরাদ্দ থাকবে ৯২টি নিম্ন আয়ের দেশের মানুষের জন্য। এ দেশগুলোয় পৃথিবীর মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বাস। বাংলাদেশও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার চীনা একটি কোম্পানিকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালাতে সম্মতি দিয়েছে। এই ট্রায়ালে স্বেচ্ছায় যার আসবে তাদেরই সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অগ্রাধিকার পাবেন ডাক্তার, নার্সসহ যারা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত।

মার্চ মাসের মাঝামাঝি মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম প্রথম ডোজ নেওয়া সাহসী মানুষটির নাম জেনিফার হ্যালার। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী ৩৪ বছর বয়সী জেনিফার মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করা সিয়াটলভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানি অটানলির কর্মী। সিয়াটলের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা একটি কমিউনিটির সদস্যরা সবার আগে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে গ্রহণের জন্য নির্বাচিত হন। সেই ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম স্বেচ্ছাসেবক হলেন জেনিফার হ্যালার। করোনা ভ্যাকসিন নেওয়া তালিকার দ্বিতীয় স্বেচ্ছাসেবী হলেন মাইক্রোসফটের নেটওয়ার্কের কর্মী নিল ব্রাউনিং। তিনি ছাড়া আরও একজন এই ডোজ নিয়েছেন।