ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাংলাদেশের অন্যতর সংকট ও ভিন্নতর সম্ভাবনা

বাংলাদেশের অন্যতর সংকট ও ভিন্নতর সম্ভাবনা

শোয়াইব জিবরান

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৩ | ১২:৫৮ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৩ | ১২:৫৮

বাংলাদেশের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ উঠলে সাধারণত কী কী প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয়? সংকটের আলাপগুলোতে ছোট আয়তনের ভূখণ্ডে অধিক জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা, বন্যা ও মারি, প্রকৃতিদূষণ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনের শাসনের অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার ইত্যাদি প্রসঙ্গ সাধারণত প্রাধান্য পায়। আর সম্ভাবনার আলাপে থাকে তরুণ সমাজের প্রতি ভরসা। কিন্তু একটি অন্যতর সংকট ও সম্ভাবনার আলাপ কখনোই প্রাধান্য পায় না কিংবা আলাপেই আসে না। সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আমরা প্রচলিত আলাপগুলোর দিকে একটু আরেকবার তাকাই।

১৯৭১ সালে দেশটি যখন স্বাধীন হয় তখন এর যে আয়তন ছিল, পঞ্চাশ বছর পরও তার আয়তন প্রায় একই রয়েছে। কিন্তু জনসংখ্যা বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে। ১৯৭১ সালে এ ভূখণ্ডের লোকসংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে সাত কোটি। আর এখন? এখন সতেরো কোটি! দ্বিগুণেরও বেশি! এখন এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে ১ হাজার ১১৯ জন মানুষ। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতি। সীমিত পরিসরে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আহার সংস্থান করতে গিয়ে চাপ পড়েছে প্রকৃতির ওপর। জমিতে করতে হয়েছে সার ও বিষ প্রয়োগ, মাছ ও মাংসের জন্য উৎপাদন করতে হয়েছে বিপুল পরিমাণ খামারজাত পশু ও মাছ। সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে অধিকমাত্রায় নানা অ্যান্টিবায়োটিক ও কৃত্রিম খাবার। সেগুলোর বিষফল চলে এসেছে মানুষের শরীরেও। নদী-নালা হয়ে পড়েছে দূষিত। পানির উৎসের জন্য পৌঁছানো হয়েছে মাটির তলদেশে। সেখান থেকেও উঠে এসেছে আর্সেনিক নামক বিষ। কিন্তু এত কিছু করেও সমাধান করা যাচ্ছে না। খাদ্য আমদানি করতে হয়। সে ডিম থেকে পেঁয়াজ সবই। প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে রপ্তানিযোগ্য তেল বা গ্যাসের মতো কোনো বড় খনি নেই। বরং এ দুটোই আমাদের আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব। বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ অঞ্চলের নিত্য হলেও তার বর্তমান চেহারা আরও রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। এগুলো প্রাকৃতিক। 

কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যাও কম নয়। রাজনৈতিক হানাহানি তার মধ্যে সবচেয়ে বড়। এ দেশে প্রতি মেয়াদের শেষে নতুন সরকার নির্বাচন সাধারণত শান্তিপূর্ণভাবে হয় না। কোনো দল ক্ষমতায় এলে যে কোনো উপায়ে সে দল সে ক্ষমতাকে ধরে রাখতে চায়। সে উপায়গুলোর একটি হলো রাষ্ট্রের সবকিছুর দলীয়করণ। এটি একটি সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের যে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে দাঁড়ানোর কথা, তা প্রায়ই দাঁড়ায় না। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সংবাদপত্র– সেগুলো পর্যন্ত দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। দেশে আইন আছে প্রচুর। কিন্তু আইনের প্রয়োগ, বিশেষত নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিয়ে অভিযোগ প্রায় সময়ই শোনা যায়। বলা হয় কোনো প্রতিষ্ঠানই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। এগুলো সব সরকারের সময়ই ঘটে। দেশ সবচেয়ে বেশি সংকটের মধ্যে পড়ে সরকার বদলের সময়।

আন্দোলন, হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতে অতীতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির অভিজ্ঞতা এ দেশের রয়েছে। এখনও সে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহল করছে। এর পরেও এত সংকটের ভেতরও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ অনেক ক্ষেত্রেই অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। এই সাফল্যের মূল কারণ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। কৃষকরা বৈশ্বিক মন্দার সময়ও দেশকে খাদ্যের সংকট থেকে দূরে রেখেছেন। আর শ্রমিকরা অর্থনীতি। এ দেশের আয়ের মূল দুটি উৎস মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো শ্রমিক আর পোশাক শিল্প। কিন্তু এ দুটো খাত নিয়েও সম্প্রতি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য দ্রুত নতুন রূপে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার আন্তর্জাতিক বাজারে মূলত টিকে আছে বিশেষ সুবিধা নিয়ে। সে সুবিধা মাত্র আর কয়েক বছর থাকবে। তারপর সস্তা শ্রমের প্রতিযোগিতায় চীনের সাথে বাংলাদেশের পেরে ওঠা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এসব কথা বিবেচনায় নিলে মনে হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাহলে অন্ধকার?

না। 

বাংলাদেশ এর চেয়ে আরও বড় বড় সংকট পার হয়ে এসেছে। আগামীতে পার হবে। কিন্তু সেটা কীভাবে?

পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রায়ই আফসোস করতে শোনা যায় যে স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। এর কারণ কী?

কারণ, বাংলাদেশের কিছু অসাধারণ সুবিধাও রয়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রে পাকিস্তানের মতো বিভিন্ন গোত্র, উপজাতি, ভাষার মতো বিভাজন নেই। এ দেশ প্রধানত এক জাতি ও এক ভাষার। এখানে  গোত্রগত সংঘাত নেই। বাংলাদেশে যেসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাস করে, তার গোষ্ঠীগত সংঘাত ব্যতিক্রম বাদে সাধারণত করে না। তারা মূলধারার সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকে। তারা তাদের নৃগত, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই সেটি করে। ফলে বাংলাদেশ জাতিগত ও ভাষাগতভাবে একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ। ঐক্যবদ্ধভাবে থাকলে অতীতের মধ্যে আগামী দিনগুলোতে এ দেশের শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ ও সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ এ দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ থাকা। সেটা কি তবে হুমকির মুখে? দুঃখজনকভাবে উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ।

এ সংকটের কারণে একসময় ভারত ভাগ হয়েছিল। সন্দেহ নেই এ সংকটের বিষবৃক্ষ ঔপনিবেশিক আমলে রোপণ করা হয়েছিল। সে বিষবৃক্ষের ফল ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র। আশার তথ্য হচ্ছে, পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরি হওয়ার মাত্র কয়েক বছরের মাথায়ই পূর্ববঙ্গের মানুষ সে পরিচয় থেকে বেরিয়ে এসেছিল। ভাষা আন্দোলন ছিল সে মাইলফলক। যার চূড়ান্ত রূপ ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র যাত্রা শুরু করেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রটিকে সে প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকেই এগিয়ে নিয়ে চলেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে তাঁকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুরোপুরি আবার পেছন দিকে যাত্রা করে। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকারের রোপণ করা সাম্প্রদায়িকতার বীজগুলোতে আবার জল দেয়া শুরু করা হয়। পরবর্তী এরশাদ আমলে এমনকি সংবিধানের পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়। আর বিগত জোট সরকারের সময় তা পুরোপুরি বিষবৃক্ষ বনানীতে রূপান্তরিত হয়। গত দেড় দশকেও এই বিষবৃক্ষ বনানীকে রীতিমতো অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়। 

এখন বাংলাদেশের সমাজ, বিশেষত তরুণ সমাজ স্পষ্টতই দুই ধারায় বিভক্ত। এক পক্ষ স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম মূলমন্ত্র অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক ধারায় আর অন্য পক্ষ সাম্প্রদায়িক, উগ্রধর্মীয় ধারায় বিভক্ত। এই বিভক্তি প্রথম তীব্র হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়। সে আন্দোলনের বিপক্ষে শাপলা চত্বরের যে উগ্র সহিংস আন্দোলন গড়ে ওঠে তাতে বিভক্তিটি সংঘাতের দিকে রূপ নেয়। এতে এ দেশের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চরিত্রটিই হুমকির মুখে পড়ে। সরকারের পুলিশি পদক্ষেপে সে হিংস্রতা যদিও দমন করা সম্ভব হয় কিন্তু তাতে ধারাটি থেমে যায়নি। বরং দিনে দিনে তা শক্তিলাভ করে। সে শক্তির জ্বালানি সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপন্থিদের শক্তির সরকারই সরবরাহ করে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মাঠে ময়দানে, বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে অবাধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রচারের অবাধ সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে অসাম্প্রদায়িক উদারপন্থিদের সংস্কৃতি চর্চায় বরং বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বা সংকুচিত করা হয়েছে। এমনকি লোকধারার বাউলদের পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লোকধারার যাত্রাপালা গানকে নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 

ফলে গত কয়েক দশকে সাম্প্রদায়িক, উগ্র প্রচারণাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এমনকি এ ধরনের প্রচারণা তরুণদের বিকল্পহীন বিনোদনে পর্যন্ত পরিণত হয়েছে। এর বিষফল হিসেবে তরুণদের বিরাট এক অংশ উগ্র সাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বেড়ে উঠেছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও সে যাত্রায় সোনার বাংলার বদলে মধ্যযুগে ফিরে যাওয়া আফগানিস্তান তৈরির স্লোগানও শোনা যাচ্ছে। 

এসবই সংকটের কথা। তাহলে সম্ভাবনা কি নেই?

অবশ্যই আছে। 

সে অন্যতর সম্ভাবনাটি রয়েছে তরুণদের মাঝেই, শিশুদের মাঝেই। আর সেটি সম্ভব প্রকৃত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভেতর। শিক্ষায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তির সাথে সাংস্কৃতিক সাক্ষরতা যুক্ত করার ভেতর। প্রবন্ধটির শুরুতে ক্ষুদ্র আয়তনের রাষ্ট্রে যে বিপুল জনগোষ্ঠীকে সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল সম্ভাবনাটি সে সমস্যার ভেতরই লুকিয়ে আছে। স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম গঠিত কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনে এ দেশে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, একই ধারার শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেটা কখনোই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বরং বিভক্তি আরও বেড়েছে। শিক্ষায় বর্তমানে ৯টি ধারার শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। এ ভিন্ন ভিন্ন ধারা সমাজে বৈষম্য তৈরি করছে। বিশেষত ইংরেজি শিক্ষা মাধ্যম তৈরি করছে পরগাছা একশ্রেণির বিদেশি নাগরিক। যাদের বড় অংশকে তাদের অভিভাবকরা বিদেশে পাঠাচ্ছেন দেশের সম্পদসহ। কওমি ধারাটি চলছে রাষ্ট্রের পুরো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ ধারার শিক্ষা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ।

অভিযোগ আছে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও।  মূলধারার রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির মূল কারণটিও মূলত রাজনৈতিক। এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বিশেষত উচ্চশিক্ষা অনেক দিন ধরেই দলীয় রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত অনেক ক্ষেত্রে পরিচালিতও হয়ে আসছে। ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি মূলত দলীয় লেজুড়বৃত্তিক। এতে শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ পরিসর নষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্ণধাররা মূলত নিয়োগ পান দলীয় বিবেচনায়। কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের অনেক সময় চলতে হয় ছাত্রনেতাদের কথায়। 

প্রয়োজন বিবেচনায় না নিয়ে অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ব্যবসায়িক বিবেচনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক কলেজে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও খোলা হয়েছে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। বাজারে চাহিদা না থাকলেও সৃষ্টি করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট। অন্যদিকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উপেক্ষিত রয়ে গেছে। 

এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন শিক্ষার সংস্কার। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে বর্তমান সময় জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। ভারত নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকা সত্ত্বেও তারা শুধু শিক্ষা খাতে উন্নতির কারণে সারা দুনিয়ার প্রযুক্তি খাতের একটি বড় অংশ তাদের দখলে। বাংলাদেশকেও এখান থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। এই সুশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিই আমাদের আগামী দিনের সম্ভাবনা। 

লেখক: প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ

আরও পড়ুন

×