ঢাকা শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

তিন জোটের রূপরেখাতেই সংকটের সমাধান ছিল, কিন্তু এখন কেউ তা মানছে না

মানুষের স্বার্থে রাজনীতিতে ফিরে আসুন

সাক্ষাৎকার: সুলতানা কামাল

মানুষের স্বার্থে রাজনীতিতে ফিরে আসুন

সুলতানা কামাল

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আবু সালেহ রনি

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ | ০০:৩২ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ | ১১:৫৯

দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতিবিদদের রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। রাজনীতিবিদ ও নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে বিশিষ্ট এই মানবাধিকার নেত্রী বলেছেন, সব সময়ই প্রত্যাশা থাকে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিরাপদে কাটুক। যারা ক্ষমতায় আছেন, তারাই শুধু নন; যারা ক্ষমতার বাইরে আছেন, তাদেরও বলব, মানুষের স্বার্থে রাজনীতিতে ফিরে আসুন। বিরোধী দলগুলো জনস্বার্থে রাজনীতি করছে না বা করতে চাইলেও পারছে না– এমন মন্তব্য করে ঢাকার ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে সমকালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, রাজনীতি হলো সমাজের নিয়ামক, রাজনীতি দিয়েই সেটা করতে হবে। যত দিন পর্যন্ত রাজনীতি সুস্থ থাকবে, ততদিন পর্যন্ত সুস্থ সমাজ গঠনের সুযোগগুলো খোলা থাকবে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আবু সালেহ রনি

সমকাল: জনগণের স্বার্থ রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলো কতটা ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন? 

সুলতানা কামাল: সংবিধানে বলা আছে, আইনের চোখে সব মানুষ সমান থাকবে। কোনো পরিচয়ে কোনো মানুষকে বৈষম্য করা যাবে না। অর্থাৎ একটি সভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য যা যা দরকার, সবই সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই সংবিধান কাটাছেঁড়া করার পর সেই বৈশিষ্ট্য আর পাওয়া যায় না। এখন যারা মাঠে আছে (আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বাম দলগুলোর জোট) তাদেরই তো রচিত তিন জোটের রূপরেখা। স্বৈরাচার এরশাদ পতনের পর এই রূপরেখা প্রণীত হয়। সেখানে এমন জীবন পদ্ধতির কথা বলা আছে, যাতে মানুষ নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, নির্বাচনের কথাটা কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ ভোট দিতে পারে এবং প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে। আইনের শাসন থাকবে। যত রকমের কালাকানুন আছে, তা বাতিল হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ অনেক বিষয়ই রূপরেখায় ছিল। এখন যারা রাজনীতি করছেন, তারাই এই দলিল তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তারা কেন এখান থেকে সরে গেলেন। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায়, আমাদের রাজনীতিকরা নিজেদের কথা থেকেই সরে যাচ্ছেন। নিজেদের করা অঙ্গীকারই তারা রাখছেন না।

 কালাকানুনগুলো রয়ে গেছে। বরং আরও নতুন আইন তৈরি করে মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা সংকুচিত করা হচ্ছে। মানুষ অনেক বেশি এখন নজরদারির মধ্যে আছে। প্রযুক্তিগতভাবে যারা মানুষকে বিপদে ফেলতে চায়, তাদের হাতে এখন অনেক অস্ত্র। তাই সব কিছুর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায় নিতে হবে।

সমকাল: রাজনীতিবিদদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসার কারণ কী বলে মনে করেন?

সুলতানা কামাল: এটি অবশ্যই রাজনীতিবিদদের নৈতিকতার অবক্ষয়। তারা নৈতিক আদর্শভিত্তিক রাজনীতি থেকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে চলে গেছেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, রাজনীতি করতে হলে চাই নেতৃত্ব, চাই ইশতেহার, স্বচ্ছ সংগঠন ও নিঃস্বার্থ কর্মী। বঙ্গবন্ধুর এসব শর্তের কোনটা এখন আওয়ামী লীগ মানছে? সংগঠন বলতে কোনটা কোন সংগঠন আমরা কিছু বুঝতে পারি না। সাংগঠনিক কোনো কর্মকাণ্ড সেভাবে দেখা যায় না। বরং যা হচ্ছে, তা জনগণের স্বার্থের বিপরীতে। রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী প্রত্যেকে কিছু না কিছু পাওয়ার আশায় রাজনীতি করছেন। তাই তাদের নিঃস্বার্থ কমী বলা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর ভাষা ধরেই বলি, রাজনীতি এখন কলুষিত হয়ে গেছে।

সমকাল : পরিত্রাণের উপায় কী?

সুলতানা কামাল: এটা এক কথায় সহজে বলা যাবে না। তবে এজন্য একটি সচেতন নাগরিক সমাজ থাকা দরকার। সেটাও আমরা তৈরি করতে পারছি না। ষাট ও সত্তরের দশকে আন্দোলনগুলো মুখোমুখি ছিল না। তবে এখন রাজনীতিবিদরা প্রত্যেকে প্রত্যেককে শত্রু ভাবে। আগে বলেছি– রাজনীতি ক্ষমতাকেন্দ্রিক, কিন্তু আরও শক্তভাবে বললে বলতে হয়, এটা আসনকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। ওই আসনটায় যদি আমি বসতে না পারি, তাহলে আমি রাজনীতি করব না বা আর কাউকে রাজনীতিও করতে দেব না।

সমকাল: রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক দলের প্রাধান্য বাড়ছে। সংবিধানেও বৈপরীত্য রয়েছে। এ বিষয়টিকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

সুলতানা কামাল: ধর্মভিত্তিক দলের রাজনীতি অবশ্যই সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। সংবিধানে বলা আছে, প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এটি যদি থাকে, তাহলে কোনোভাবেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি থাকতে পারে না। কেউ যদি ভাবে সমাজতন্ত্র দিয়ে দেশের মঙ্গল হবে, আবার কেউ ভাবল ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দিয়ে দেশের মঙ্গল হতে পারে। তবে সেটা তো সহিংস হতে পারে না। অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মতো হতে পারে না। এটি নিয়ে তাহলে তর্ক-বিতর্ক হোক। প্রত্যেককেই সমান সাংস্কৃতিক বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।

সমকাল: নব্বইয়ের দশকে যুদ্ধাপরাধীর বিচারে আপনার মা বেগম সুফিয়া কামাল ও শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআদালত এবং ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বে সফল আন্দোলন হতে দেখেছি। এখন তাহলে নাগরিক আন্দোলনগুলো জনগণকে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে?

সুলতানা কামাল: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কথা আছে, একটি সমাজ যত দিন গঠিত না হয়, জাতি তত দিন গঠিত হয় না। সমাজ গঠনের জন্য শিক্ষা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা প্রয়োজন, সেই সব কিছুই ক্ষমতাসীন সরকারগুলো বাধাগ্রস্ত করছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে বাক্‌স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মানুষ যদি কথা বলতে না পারে, সাংস্কৃতিক চর্চা করবে কী করে? সংগঠিত হবে কী করে? সংগঠিত হওয়ার অধিকারই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যত দিন পর্যন্ত রাজনীতি সুস্থ থাকবে, তত দিন পর্যন্ত সুস্থ সমাজ গঠনের সুযোগগুলো খোলা থাকবে। তারপরও অনেক সময় যখন নিপীড়নমূলক রাজনীতি থাকে, তখন মানুষ উঠে দাঁড়ায়। সমস্যা হলো, আমরা নিপীড়িত হচ্ছি আমাদেরই মানুষের মাধ্যমে। জনগণ তখনই উঠে দাঁড়াতে পারে, যখন একটা মুক্তধারার রাজনীতি তাদের পাশে থাকে। স্বাধীনতার আগে মূল ধারার আন্দোলন আর অন্যান্য সংগঠনের আন্দোলন বোঝাপড়ার মাধ্যমে হতো। যেটা এখন আর নেই। 

সমকাল: দেশের রাজনীতিতে বিদেশি শক্তিগুলোর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অনেকে বলছেন জনগণও অনেকাংশে রাজনীতিবিমুখ হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

সুলতানা কামাল: এটি সামগ্রিক ব্যাপার। অনেকে মিলে এ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তবে দেশের রাজনীতি যেভাবে অবক্ষয়িত হয়েছে বা রাজনীতিতেই শুধু অনৈতিকতা দেখতে পাচ্ছি তা নয়, এর একটা ছোঁয়া সামগ্রিকভাবে সমাজেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমাজ এখন বিভক্ত হয়ে গেছে। সমাজ হয়তো যে কথা মুখে বলে, সেটা মনে ধারণ করে না বা যে কথা মনে ধারণ করে, সেটা মুখে বলছে না– এটি নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠতে পারে। সংস্কৃতি চর্চাও হয়ে গেছে অনেকটাই নির্দেশিত। যে গানগুলো বা যে কথাগুলো বলতে হবে, সেটি বলে। অথচ আগে সংস্কৃতি চর্চা খুব প্রতিবাদী থাকত। কোনো সমাজের অনাচার দেখলে বা কোনোভাবে দেখা গেল অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, তাহলে সেগুলো নিয়ে কথা বলত। মানবাধিকারের নাট্যদল তৈরি হতো। এখন সেগুলো আর করা যাচ্ছে না। মানবাধিকার কথাটাকেই একটা অপরাধমূলক শব্দ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে গেছে। 

সমকাল: নির্বাচন নিয়ে জনগণের আগ্রহ কেন কমছে?

সুলতানা কামাল: শুধু নির্বাচন নয়, অনেক ক্ষেত্রেই আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। কারণ মানুষের মতের কোনো মূল্য নেই, পছন্দের মূল্য নেই, অধিকারের কোনো সম্মান নেই। এগুলো নিশ্চিত হলে নির্বাচন নিয়ে জনগণের আগ্রহ থাকত। তখন তারা ভাবত মানুষ হিসেবে তিনি সম্মানিত হচ্ছেন, তাঁর মর্যাদাকে মূল্যায়িত করা হচ্ছে। আগে নারীরা অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়াতেন, ভোট দিতেন। কারণ অন্য কোনো উৎসব নয়, ভোটের ওই একটা দিন তাদের সম্মান করা হতো। নারীরা নাগরিক হিসেবে মর্যাদা পেতেন, সেটাকেও এখন নানাভাবে সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে।

সমকাল: রাজনৈতিক সংকটের জন্য বিরোধী দলের দায় আছে বলে মনে করেন কিনা?

সুলতানা কামাল: বিরোধী দল নেই বলেই দেশে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীতে বলেছেন, একটি শক্তিশালী বিরোধী দল সৃষ্টি করতে না পারলে রাজনীতিতে একনায়কত্ব সৃষ্টি হয়। আমরা এখন সেই জায়গায় চলে গেছি। এখানে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি জনগণেরও দায় আছে। জনগণকেও উঠে দাঁড়িয়ে বলতে হবে যথেষ্ট হয়েছে, আমরা আর এগুলো চাই না। তবে সেই বলার শক্তিটাও জনগণ কোনো কারণে দেখাতে পারছে না। আর বিরোধী দলের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আগে সুস্থ ধারার রাজনীতি আর প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির সঙ্গে জনগণের একটি সম্পর্ক স্থাপন হতো। জনগণ সেখানে সম্পৃক্ত বোধ করত। তারা ভাবত এটা আমাদের ব্যাপার। এখন কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো এজেন্ডায় আর জনস্বার্থ নেই। একমাত্র এজেন্ডা হলো কী করে ক্ষমতায় যাওয়া যায় বা ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়। ফলে জনগণ এখন প্রতিদিনকার জীবনটাকে শান্তিপূর্ণভাবে পার করতে চায়, স্বাধীনভাবে যাপন করতে চায়, জনগণ কারও মুখাপেক্ষী থাকতে চায় না, কোনো শঙ্কা নিয়ে বাঁচতে চায় না। ক্ষমতায় যারা থাকে, তারা যদি এগুলো নিশ্চিত করার বিধান করতে না পারে, তখন বাইরে যে রাজনৈতিক দলগুলো থাকে, জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সেটা নিশ্চিত করার জন্য তাদের কাজ করার কথা। তবে সেই প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বটা কখনোই দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বিরোধী দলগুলো নিশ্চিত করতে পারছে না। আরেকদিকে বিরোধী দলগুলো জনস্বার্থে রাজনীতি করছে না বা করতে চাইলেও পারছে না। ফলে জনগণের কোথাও দাঁড়ানো অবস্থা নেই।

সমকাল: জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ জানতে চাই। 

সুলতানা কামাল: বিষয়টি বিব্রতকর। প্রশাসন দলীয়করণের এমন মাত্রায় পৌঁছেছে, তাদের অন্য কোনো দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ নেই। আর বিচার ব্যবস্থার কোনো ব্যাপারই নেই। টেলিভিশনের টকশোতে দেখা যায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারকও হয়রানিমূলক গণগ্রেপ্তারকে সমর্থন করছেন। অথচ আইনের ৫৪ ধারায় বলা আছে, কাউকে গ্রেপ্তার করলে পরিবারকে জানাতে হবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করতে হবে। একজন বিচারক যদি এগুলো না মানার পরেও বলেন, সেটা অনিয়ম নয়, মানবাধিকারের লঙ্ঘন নয়। তাহলে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আর কী বলা যেতে পারে।

সমকাল: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা কী?

সুলতানা কামাল: সব সময়ই প্রত্যাশা থাকে মানুষের জীবন ভালো হোক। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিরাপদভাবে কাটুক। প্রত্যেকটা শিশু ভাবতে শিখুক, এই দেশে তার ভবিষ্যৎ আছে; প্রত্যেক তরুণ ভাবুক এই দেশে তার কিছু করার আছে। কারণ এই দেশটা তার, এই দেশের মালিকানাও তার। যে মালিকানা সংজ্ঞায়িত হয়েছে আমাদের জাতীয় সংগীত দিয়ে, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। এই ভালোবাসা দিয়ে মানুষ দেশকে চিনতে শিখুক এবং সেটার জন্য যারা রাজনীতিতে আছেন, যারা ক্ষমতায় আছেন তারাই শুধু নন, যারা ক্ষমতার বাইরে আছেন সবাইকেই বলব দয়া করে মানুষের স্বার্থে রাজনীতিতে ফিরে আসুন। 

সমকাল: আপনাকে ধন্যবাদ।

সুলতানা কামাল: সমকালকেও ধন্যবাদ। 

আরও পড়ুন

×