কঠিন ধাতুতে আবেগের ভাস্কর্য

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯   

সমকাল ডেস্ক

লোহালক্কড় স্পর্শমাত্রই আমাদের মাঝে এক কঠিন-শীতলতার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। কঠিন দৃঢ়তা আর স্থায়িত্বের কারণেই মানবসভ্যতায় এর এতো কদর। বিশাল বিশাল স্থাপত্য ও নির্মাণ কাঠামোর পরম নির্ভরতা এই ধাতু। শরীরে যেমন কঙ্কাল লুকিয়ে থাকে, তেমনি এই সভ্যতার অন্যতম ভিত লোহার কাঠামোটিও যেন আকাশছোঁয়া ভবনে লুকিয়ে রাখা। 

আমাদের এই যন্ত্রসভ্যতায় লোহাতো আরও অবিচ্ছেদ্য উপাদান। এই ধাতুর সঙ্গে যুক্ত অনমনীয়-কাঠিন্যের অনুভূতিটুকু আমরা চাইলেও যেন মুছে ফেলতে পারি না। তবে শিল্পীরা শত শত বছরের এই অনুভব-বন্দিত্ব ঠিকই ঘুচিয়ে দিতে পারেন। তারা

এই কঠিন ধাতুকেও মানব অনুভূতির বাহন করে তুলতে পারেন। যাকে বলা যায় কঠিন ধাতুকে কোমল অনুভূতির সঞ্চার। মাঝেমাঝে মানুষের মধ্যে যে আকাড়া ও তীব্র অনুভূতির বিস্ফোরণ ঘটে, তাকেও ধাতব কাঠামোতে ফুটিয়ে তোলা যায়।

এ কাজটিই অনন্য সফলতার সঙ্গে সম্ভব করেছেন যুক্তরাজ্যের শিল্পী পেনি হার্ডি। জংধরা ও ফেলনা যন্ত্রাংশ দিয়ে গড়া এ শিল্পীর 'ব্লাউন অ্যাওয়ে' সিরিজের ভাস্কর্যগুলো আমাদের মাঝে আশ্চর্য সজীবতার অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়। যেন তারা আর লোহালক্কড়ের কোনো শরীর নয়, জীবন্ত মানুষ। তার একটি ভাস্কর্যে দেখা যায়, প্রবল বাতাসের বিপরীতে ধনুকের মতো বেঁকে গিয়ে একজন মানুষ কী অদ্ভুত অনুভবে মগ্ন। যেন বাতাসের তোড়ে জামার মতো এবং মাথার দিঘল ও তরঙ্গময় চুলের মতো তার শরীরটাই পেছনের দিকে একটু একটু করে খুলে খুলে উড়ে যাচ্ছে। অনুভূতির তোড়ে বাতাসের সঙ্গে একাত্ম হতে হতে এক সময় সেই বাতাসেই যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে থাকা।

তার আরেকটি ভাস্কর্যে দেখা যায়, তরুণ-তরুণীর এক জুটি মুখোমুখি ভীষণ অনুরাগপ্লাবিত হয়ে দাঁড়ানো। এই অনুভূতির তীব্র টানে তাদের পেছন থেকে একের পর এক টুকরো অদৃশ্য থেকে উড়ে এসে জোড়া লাগছে আর তাদের শরীরটাকেই ধীরে ধীরে আকৃতি দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ডেভনের বাসিন্দা পেনিড হার্ডি বলেন, ফেলনা যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশ দেখে শুধু যান্ত্রিকতার কথা মনে হয়। ফেলনা জিনিসকে আবার ব্যবহার করে এক নতুন ও সজীব জগৎ গড়ে তোলার আনন্দই আলাদা। উৎস: মাইমডার্নমেট ডটকম