ক্যানভাসের চরিত্রের ভাসমান প্রদর্শনী

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল ডেস্ক

চিত্রশিল্পের বিশ্বে নর্দান রেনেসাঁসখ্যাত এক বিশিষ্ট ধারার কিংবদন্তি শিল্পী হিয়েরোনিমাস বশ। অদ্ভুত কল্পনা আর উদ্ভট অবয়বের সংমিশ্রণে অতি অপরিচিত এক চিত্রজগৎ গড়ে তুলেছেন এই হেঁয়ালি ডাচ শিল্পী। 

কল্পবাস্তব ও যুক্তিধসের জগৎটি শিল্পী গড়ে তুলেছিলেন সেই পঞ্চদশ থেকে ষোড়শ শতকের মধ্যে, সুনিপুণ চারুদক্ষতা আর বিস্তারিত খুঁটিনাটিসহ। আজও এর প্রবল প্রভাব পরিলক্ষিত হয় চিত্রকরদের ক্যানভাসে। পরাবাস্তবতাবাদী শিল্পী সালভাদর দালি, কিউবিস্ট শিল্পী পাবলো পিকাসোসহ হাজারো শিল্পীর ক্যানভাসে তাকালে মনে হবে, হিয়েরোনিমাস বশের সেই কল্পনাশক্তি এখনও তাদের সৃজন-ঝরনাকে দারুণভাবে সচল রেখেছে।

এবার একদল শিল্পী বশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তার ক্যানভাসের সেই জগৎকেই বাস্তবে রূপ দিলেন। শুধু তাই নয়, ক্যানভাসেরই সেইসব খণ্ড খণ্ড জগতের ত্রিমাত্রিকরূপ নিয়ে ভাসমান প্রদর্শনী করলেন। শিল্পীরা এ জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনীর নাম দিয়েছেন 'বশ প্যারেড'। হিয়োরোনিমাস বশের নিজের শহর এস-হার্টজেনবকসের বুকে বয়ে চলা ডোম্মেল নদীতে এ প্রদর্শনী হয়। 

বসের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'দ্য গার্ডেন অব ডিলাইটে'র অনেক চরিত্র নদীতে ভেসে চলতে দেখা যায়। ক্যানভাসের একেকটি চরিত্র বাস্তবে চলমান স্থাপত্যকর্মে রূপ নেয়। ছোট ছোট ঢেউয়ে ভরা নদীর বুককে করে তুলে অতি অচেনা এক স্বপ্নের জগৎ। সেখানে চরিত্রগুলো মানুষের দেহবিশিষ্ট হলেও কত অচেনা। অচেনা প্রাণীরাও আছে। আবার কোনো ভাসমান স্থাপত্যকর্মে উঁকি দিচ্ছে একগুচ্ছ হাত-পা, তারা আবার চারাগাছের মতোই মনে হচ্ছে, যেন একটা ঝোঁপ! 

বশের সেই চরিত্ররা বিচিত্র রঙের পোশাকে সেজে উদ্ভট সব যন্ত্র নিয়ে দাঁড় বেয়ে ভেসে চলে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি স্থাপত্যকর্মের সঙ্গে মানানসই সংগীতও বাজিয়ে চলে তারা। দর্শক তা দেখতে গিয়ে হারিয়ে যায় যুক্তিহীনতার আরেক অপার্থিব জগতে! এই কাব্যিক ও ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীতে অংশ নেন আড়াইশ' শিল্পী, গায়ক ও বাদক। সূত্র: মাইমডার্নমেটডটকম