ফুল-পাতা-ডালে প্রাণী ও কীটপতঙ্গের প্রতিকৃতি

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২০   

সমকাল ডেস্ক

শিল্পীর চোখ সব সময়ই আলাদা। সাধারণ মানুষ কোনো কিছুকে সাদামাটাভাবে দেখলেও একজন শিল্পী তার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে সেটার মধ্যেই খুঁজে পান অনন্য কিছু। একজন শিল্পী চাইলেই কাদামাটিকে আদল দিতে পারেন; কাঠ, লতাপাতা দিয়ে বানাতে পারেন অলংকার; তাতে ফুটিয়ে তুলতে পারেন প্রাণ-প্রকৃতি। 

তেমনি শিল্পসত্তা কাজে লাগিয়ে জাপানের শিল্পী ও আলোকচিত্রী রাকু ইনৌ প্রকৃতির ছোঁয়ায় বানিয়েছেন জল ও স্থলের প্রাণী এবং কীটপতঙ্গের প্রতিকৃতি। তিনি ব্যবহার করেছেন ফুল-পাতা ও ডালপালা। নিখুঁত বুনন ও গাঁথুনির মাধ্যমে বানানো এসব প্রতিকৃতি যেন একেকটি জীবন্ত প্রাণী!

রাকুর বানানো প্রতিকৃতির মধ্যে রয়েছে বাঘ, হাতি, প্যাঁচা, তিমি, প্রজাপতি, মাকড়সা, পান্ডা, গুবরে পোকাসহ বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ। আর এসব বানাতে ব্যবহার করা ফুল-পাতা, ডালপালা শিল্পী রাকুর নিজের বাগানের। এ কাজের শুরুর গল্প জানিয়েছেন শিল্পী রাকু। 

তিনি বলেন, একদিন প্রচণ্ড বাতাস হচ্ছিল এবং তার বাগানের গোলাপের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে উঠানে পড়ে ছিল। সেখান থেকে তিনি কিছু পাপড়ি তুলে নেন এবং সেই প্রথম তিনি ফুলের ভাস্কর্য বানিয়ে ফেলেন। সেটি ছিল গোলাপের পাপড়ির একটি গুবরে পোকা। এর পর থেকে তিনি সৃজনশীল এই কাজ করেই যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে কফি পান করতে করতে তিনি এসবের চর্চা করেন।

রাকু জানান, তিনি খুবই সতর্কতার সঙ্গে ফুল-পাতাগুলো গেঁথে থাকেন। এগুলো ফুটিয়ে তুলতে তিনি দৃষ্টিনন্দন করতে বাহারি রঙের ফুল-পাতার সংমিশ্রণ ঘটান। বানানোর পর তিনি সেগুলোর ছবি তোলেন। এরপর দেখলে মনে হয় যেন প্রাকৃতিক ঐতিহাসিক জাদুঘর। 

রাকু বলেন, কোনো কোনো প্রতিকৃতি বানাতে তার ২০ মিনিট সময় লাগে, আবার কখনও কয়েক সপ্তাহও লেগে যায়। সূত্র: বোর্ডপান্ডা ডটকম