বিদ্রোহী কবির আজ ১২১তম জন্মজয়ন্তী

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২০     আপডেট: ২৫ মে ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

‘বিদ্রোহী’ একটি অবিস্মরণীয় কবিতার নাম। ১৯২১ সালে তৎকালীণ ব্রিটিশ শাসিত বিশাল ভারতবর্ষে এই একটি কবিতা সকলকে বিস্ময়কর ভাবে নড়ে-চড়ে বসতে বাধ্য করেছিল। মাত্র একুশ বছর বয়সে রচিত এই কবিতার মাধ্যমে ভারতবর্ষে ধূমকেতুর মতো বিস্ময়কর আত্মজাগরণ হয় এক মহান কবি কাজী নজরুল ইসলামের। তারপর থেকে পাদ-প্রদীপে আসা এই কবি লিখেছেন দেশের স্বাধীনতার পক্ষে আর গণমানুষের নিপীড়ন, বৈষম্য, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে।  ভারতবর্ষের মুক্তি দাবির পাশাপাশি তার লেখনীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, বিশ্বমানবমুক্তি কবিতা-গান উঠে এসেছে। আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। বিশ্বমানবতার উপর নিপীড়ন, বৈষম্য, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে অগ্নিকণ্ঠে সোচ্চার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মজয়ন্তী।

কবির এবারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনা অনুসরণ করে করোনাভাইরাস সংক্রমন এড়াতে জনসমাগম না করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতীয়ভাবে এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহন করেছে। এর মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রণালয় নির্মাণ করেছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘জাগো অমৃত পিয়াসী’। সকাল এগারোটা হতে বিটিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে একযোগে এই অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।

এর আগে সকাল ১১টায় স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে শুরু হবে দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

এছাড়াও অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার তূর্যবাদক কবি কাজী নজরুলের এ জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট আয়োজন করেছে ‘নব যুগ ঐ এল ঐ’ শিরোনামের বিশেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি আয়োজন সম্পর্কে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা অনুসারে জনসমাগম এড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমরা জাতীয় কবিকে স্মরণ করবো তারই সৃষ্ট গান-কবিতা দিয়ে। অনুষ্ঠানটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। আয়োজনটি দেখা যাবে ইউটিউব চ্যানেল।

দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে বড় হওয়া নজরুলের চমকে দিয়েই বাংলার সাহিত্যাকাশে দোর্দণ্ড প্রতাপে আত্মপ্রকাশ। যা ধূমকেতুর সঙ্গেই তুলনীয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দূর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, ‘কবি কাজী নজরুল অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদ্রোহী কবির জীবনাদর্শ অনুসরণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ, সুখী-সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।’