বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। তাদের কর্মপরিধি নিয়ে মানুষের আগ্রহ যেমন বেশি, তেমনি তাদের ব্যক্তিজীবন নিয়েও আগ্রহের শেষ নেই। তাদের ব্যক্তিগত জীবনের মজার ঘটনা হলে তো কৌতূহল আরও আকাশচুম্ব্বী। তেমনি কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে ঘটা মজার ঘটনা জেনে নেওয়া যাক...

- আলবার্ট আইনস্টাইন ছোটবেলা থেকেই কম কথা বলতেন। এ জন্য তার মা-বাবা তার মানসিক বিকাশ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। একদিন রাতের খাবার টেবিলে আইনস্টাইন তার নীরবতা ভাঙেন। হঠাৎ বলে উঠেন, 'স্যুপ খুব গরম'। অত্যন্ত স্বস্তি পেয়ে তার মা-বাবা জিজ্ঞাসা করেন, কেন সে আগে একটি কথাও বলেনি। আলবার্ট জবাব দেন, কারণ তখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।

- গোয়েন্দা গল্পের বিখ্যাত লেখক আর্থার কোনান ডয়েল একবার প্যারিসে গিয়েছিলেন। হোটেলে যাওয়ার জন্য তিনি রেলস্টেশনে একটি ক্যাব ভাড়া করেন। কোনান ডয়েলকে নাম ধরে ডেকে ক্যাবম্যান জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনি কোন হোটেলে যেতে চান?'

কোনান খুব অবাক হয়ে যান। 'আপনি আমার নাম জানেন কীভাবে?' ক্যাবম্যানকে জিজ্ঞাসা করেন কোনান। ক্যাবম্যান উত্তর দেন, 'পত্রিকায় পড়েছিলাম আপনি প্যারিসে আসবেন। এরপর আপনার স্যুট দেখে বুঝলাম আপনিই কোনান ডয়েল।'

কোনান ডয়েল ক্যাবম্যানের প্রশংসা করে বলেন, 'আপনি জন্মগতভাবে গোয়েন্দা।' ক্যাবম্যান বলেন, 'স্যার, আপনাকে ধন্যবাদ। তবে আরেকটি বিষয় আপনাকে চিনতে সাহায্য করেছিল। আপনার সঙ্গে থাকা ব্যাগে আপনার নাম লেখা আছে।'

-বিখ্যাত আমেরিকান লেখক মার্ক টোয়েন ফ্রান্স ভ্রমণ করছিলেন। ট্রেনে ডিজন যাচ্ছিলেন। সেদিন তিনি খুব ক্লান্ত ছিলেন এবং ট্রেনেই ঘুমাতে চাচ্ছিলেন। এরপর তিনি ট্রেনের কন্ডাক্টরকে বলেন, তাকে যেন ডিজনে এলে ডেকে দেওয়া হয়। কন্ডাক্টরকে মার্ক টোয়েন বলেন, তাকে ঘুম থেকে ডাকার সময় তিনি খুব রেগে যেতে পারেন। কিন্তু সে রাগে মন খারাপ না করে তাকে যেন অবশ্যই ডিজনে ডেকে দেওয়া হয়। ট্রেন ডিজন ছেড়ে প্যারিসে পৌঁছার পর টোয়েন জেগে ওঠেন। ট্রেনের কন্ডাক্টরের ওপর ক্ষেপে যান তিনি। তাকে খুঁজে বের করে টোয়েন বলেন, 'আমি আমার জীবনে এর আগে কখনও এত বেশি রাগান্বিত হইনি।' ট্রেনের কন্ডাক্টর টোয়েনকে বলেন, 'আমারও তাই মনে হয়েছিল মানুষ এত রেগে যায় কীভাবে। আপনাকে ঘুম থেকে ডাকার সময় যে রাগ আমি দেখেছি, তা কখনও ভোলার নয়।'

-ইংল্যান্ডের অন্যতম বিখ্যাত চিত্রশিল্পী টমাস গেইন্সবারো তার প্রতিভাটি ভিন্নভাবে প্রকাশ করেছিলেন। ছোটবেলায় একবার তার বাড়ির কাছে হাঁটতে হাঁটতে দেখেন এক চোর প্রতিবেশীর বাগানের দেয়াল টপকে বাড়িতে ঢুকছে। চোরের দেয়াল টপকানো তিনি মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করে বাড়ি ফিরে যান। বাসায় ফিরেই পেন্সিল নিয়ে আঁকতে বসেন। চোর দেয়াল টপকাচ্ছে এ রকম একটি ছবি আঁকেন। টমের বাবা তার কাছে দেয়াল টপকানোর কাহিনি শুনে চিত্রকর্মটি দেখার পর তৎক্ষণিকভাবে তা পুলিশের কাছে নিয়ে যান। চিত্রকর্মটিতে চোরের ছবি এমন নিখুঁতভাবে আঁকা হয়েছিল যে, চোরকে ধরতে পুলিশের একটুও সময় লাগেনি।

-কালজয়ী পিয়ানোবাদক আর্থার রুবেস্টাইনের কাছে একদিন কনসার্টের পর এক মা তার ছেলেকে নিয়ে আসেন। সেই মা আর্থার রুবেস্টাইনকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তার ছেলের পিয়ানো বাজানো শোনেন। কিন্তু আর্থার বলেন, 'তিনি ব্যস্ত। প্রতিটি ছেলের কাছে গিয়ে পিয়ানো বাজানো শোনার সময় নেই। মা হাল ছেড়ে দেননি। অনেক চেষ্টার পর আর্থারকে তিনি তার ছেলের পিয়ানো বাজানো শোনানোর জন্য রাজি করাতে পারেন। ওই ছেলের পিয়ানো বাজানো শোনার পর আর্থার রুবেস্টাইন মন্তব্য করেন, এটি নিঃসন্দেহে তার শোনা সবচেয়ে খারাপ পিয়ানো বাজানো।' আর্থারের এমন মন্তব্যের পর ছেলের মা খুব খুশি হয়ে যান এবং তার ছেলেকে বলেন, দেখ, শুধু আমি নই। পৃথিবী সেরা পিয়ানোবাদকও বলছে, তুমি সবচেয়ে খারাপ পিয়ানো বাজাও। এবার তোমার উচিত পিয়ানো বাজানো ছেড়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া।