সব ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে এ অনুরোধ জানান তারা।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান সমকালকে জানান, বৈঠকে সব ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেসব শ্রমিক ঢাকায় আছেন, তাদের নিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিজেএমইএ। শ্রমিকদের ঢাকা ফিরতে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, শিল্প কারাখানা খুলে দিলে আমরা শ্রমিকদের টিকার ব্যবস্থা করতে পারি। আমরা ইতোমধ্যে টিকা দেওয়া শুরু করেছি শ্রমিকদের। শিল্প কারাখানা খুলে দিলে আমরা ফের টিকা দেওয়া শুরু করতে পারব। অন্যদিকে এখন অনেক শ্রমিক গ্রামে রয়েছেন। সেখানে করোনার সংক্রমণ অনেক বেশি। শ্রমিকদের কেউ যদি আক্রান্ত হয় তাহলে সেখানে পর্যাপ্ত ওষুধ বা হাসপাতালের ব্যবস্থা নেই। তারা যদি কারখানায় চলে আসেন তবে আমরা তাদের এই ব্যবস্থাগুলো করতে পারব। 

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ৫ তারিখ পর্যন্ত যদি লকডাউন থাকে তবে অন্যান্য সবার সঙ্গে শ্রমিকরাও ফিরবেন ঢাকায়। ফলে সেসময় একটা চাপ বাড়বে। এছাড়া সেসময় বেতন দেওয়া নিয়েও একটা জটিলতা তৈরি হবে। আমরা সব কিছু মিলিয়ে বলেছি, কল-কারখানাগুলো খুলে দিতে। উনারা বলেছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলে তারা জানাবেন। 

তিনি জানান, শিল্প-কারখানার খোলার অনুমতি পেলে যেসব শ্রমিক কাছাকাছি থাকেন তাদের দিয়ে আমরা কারখানা চালু করব। আর যারা গ্রামে গেছেন লকডাউন খুললে তারা এসে কাজ শুরু করবেন।

বৈঠকের পর এ বিষয়ে কোনো ব্রিফ করেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব বৈঠকে বিজিএমই নেতৃবৃন্দকে বলেছেন, এ সংক্রান্ত কোর কমিটি গত মঙ্গলবার একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফ করে জানিয়েছেন যে ৫ আগস্টের আগে শিল্প কারখানা খোলার অনুরোধ রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যই বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।