বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ ঔপনিবেশিক দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালিকে স্বাধীনতার স্বাদ দিয়েছেন। জীবনব্যাপী যে সাধনা ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিয়েছেন, ইতিহাসে তার তুলনা মেলা ভার।

রোববার বাংলা একাডেমি আয়োজনে মাসব্যাপী ‘শোক ও শক্তির মাস আগস্ট ২০২১’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আয়োজনে অনলাইনে আলোচনা, বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতাপাঠ ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান করা হবে। এ অনুষ্ঠানমালা বাংলা একাডেমির ফেসবুক পেজেও দেখানো হবে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যে যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত ছিল, তার সঠিক উন্মোচন করতে বাংলা একাডেমিকে একটি প্রামাণ্য উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত ‘আমি আজ কারও রক্ত চাইতে আসিনি’ কবিতা পাঠ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সচিব এএইচএম লোকমান বলেন, সবার সহযোগিতায় আমরা মাসব্যাপী অনুষ্ঠানমালা সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা পৌঁছে দিতে সক্ষম হব বলে আশা করি।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবি বেলাল চৌধুরীর ‘বত্রিশ নম্বর’ কবিতার আবৃত্তি পরিবেশন এবং বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বক্তব্য প্রদান করেন বাচিকশিল্পী ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা কেবল ব্যক্তি হত্যা নয় বরং তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার হত্যাকাণ্ড। এ নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পরাজিত পাকিস্তানি আদর্শের দিকে ধাবিত করা শুরু করে ঘাতকচক্র।

বঙ্গবন্ধু বিষয়ক আলোচনা এবং স্বরচিত ‘টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে’ কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি কামাল চৌধুরী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক পুরুষ। তাকে হারানোর মাস আগস্ট তাই কেবল শোকের মাস নয়, শোক থেকে অর্জিত শক্তি ও জাগরণেরও নাম। তাই আমরা এবার শক্তি ও জাগরণের প্রেরণায় জাতীয় শোক দিবস পালন করব।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বাংলা একাডেমি শোক ও শক্তির মাস আগস্টে ফিরে তাকাতে চেয়েছে বঙ্গবন্ধু-বাহিত বাংলার ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে এবং তাকে হারানোর শোকার্ত আবহে। আমরা আশা করি, বৈশ্বিক মহামারির মধ্যেও অনলাইনে আমাদের নিয়মিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির প্রতি আমাদের বিনীত শ্রদ্ধার্ঘ্য অব্যাহত থাকবে। এভাবেই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহিত সোনার বাংলা বাস্তবায়ন ও পরিপূর্ণতা পাবে।