প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও গবেষক বশীর আল-হেলাল মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

বাংলা একাডেমির ফেলো ও সাবেক পরিচালক বশীর আল-হেলালের পরিবারের বরাত দিয়ে বাংলা একাডেমির সচিব লোকমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বশীর আল-হেলাল দীর্ঘদিন ধরে আলঝেইমারসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মেয়ে দুপুরে বাংলা একাডেমিতে তার মৃত্যুর খবর জানান।

বশীর আল-হেলাল ১৯৩৬ সালের ৬ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামের মীর পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে বাংলায় এম এ পাস করেন তিনি। এরপর চাকরি নেন কলকাতায় হজ কমিটিতে। তার প্রথম গল্পের বই 'স্বপ্নের কুশীলব' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

বশীর আল-হেলাল ১৯৬৮ সালের শুরুর দিকে মাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। এরপর ১৯৬৯ সালের শুরুতে বাংলা একাডেমিতে সহ-অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৩ সালে পরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমি থেকে অবসর নেন তিনি।

বশীর আল-হেলালের আটাশ পৃষ্ঠার ভাষা-আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৮৫) একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। তার প্রকাশিত গল্পের বইগুলো হলো- 'প্রথম কৃষ্ণচূড়া', 'আনারসের হাসি', 'বিপরীত মানুষ', 'ক্ষুধার দেশের রাজা', 'গল্পসমগ্র-প্রথম খণ্ড'। তার প্রকাশিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 'কালো ইলিশ', 'ঘৃতকুমারী', 'শেষ পানপাত্র', 'নূরজাহানদের মধুমাস', 'শিশিরের দেশে অভিযান'।

সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য বশীর আল-হেলাল আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ (১৯৯৩) বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।