ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ততৃীয় কোনো পক্ষকে গুরুত্ব দেয় না ভারত। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সঙ্গে অন্য কোনো সম্পর্কের তুলনাও চলে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোয়াডে যোগ দেবে কিনা সেটা বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে কোয়াডভুক্ত চারটি দেশের কাছেই ইন্দো-প্যাসিফিক ভূরাজনীতির জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সফরসঙ্গী হিসেবে ঢাকায় এসেছেন। রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির বর্তমান সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতির সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের বছরে মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় এসেছিলেন। আর বছরের শেষে এসেছেন রাষ্ট্রপতি। কোনো দেশে একই বছরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সফর একটি বিরল ঘটনা। আর এ ঘটনা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঘটেছে, কারণ বাংলাদেশকে ভারত সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে। ভারতের রাষ্ট্রপতির এ সফর দু'দেশের গভীর বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যোগাযোগ, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিতে চায়। ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ক্রমাগত চীনের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত তৃতীয় কোনো পক্ষকে গুরুত্ব দেয় না। কারণ বাংলাদেশ-ভারত একাত্তরে রক্তের বাঁধনে বাঁধা। দুই দেশের সংস্কৃতিগত ঐতিহ্য একই ধারায় প্রবাহিত। অতএব বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্য কোনো সম্পর্কের তুলনা চলে না। বাংলাদেশই ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং এ সম্পর্ক ক্রমাগত উচ্চতর হবে।

রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত চায় এ সম্পর্কের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান। এ সংকট সমাধানে ভারত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই দেশের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ সংকট সমাধানে রাজনৈতিক উদ্যোগ আসতে হবে এবং সেটা রাজনৈতিক নেতৃত্বই নিতে পারে।

সীমান্ত হত্যা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কীভাবে এ ধরনের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়, সে সম্পর্কে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। একটা রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই সীমান্তে দুঃখজনক ঘটনা বন্ধ হতে হবে।