রাজধানী ঢাকাতে ‘ওআইসি যুব রাজধানী ২০২০’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয় কোভিড মহামারির সময়। বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে কোভিড-১৯ ও এর পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং একটি ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

ঢাকা ওআইসির ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০ উদযাপনের জন্য ১০টি বিস্তৃত মেগা ইভেন্ট ডিজাইন করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০-২১ বঙ্গবন্ধু যুব আর্ট প্রতিযোগিতা একটি। সম্প্রতি ঢাকায় এই প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার লাভ করেছেন তরুণ আলোকচিত্রী আবির মাহমুদ। 

জীবনের নানা রঙের গল্পগুলো বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ক্যামেরার মাধ্যমে তুলে আনার কাজটি নিবিড় মনে করেন এ তরুণ আলোকচিত্রি। স্বল্প সময়ের ফটোগ্রাফি ক্যারিয়ারে  ৮০টি দেশে তার  ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। সাফল্যের ঝুলিতেও আছে  বেশকিছু পুরস্কার। ফটোগ্রাফির শুরুর সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ফটোগ্রাফিতে যাত্রার শুরুটা মোটেও সহজ ছিলো না, সালটা ২০১৫, তখন আমি দশম শ্রেণির ছাত্র। ফ্যামিলি থেকে তখন তেমন সাপোর্ট ছিলো না, তারা মনে করতেন আমি হয়তো বখে যাচ্ছি। তাই নিজের হাত খরচের টাকা জমিয়ে একটি ফোন এবং ম্যাক্রোলেন্স কিনে শুরু হয় আমার ফটোগ্রাফির যাত্রা।’

 এতো স্বল্প সময়ে ৮০টি দেশে আপনার ছবি প্রদর্শিত হলো। প্রশ্ন শুনে আবিরের উত্তর, ‘আসলে আমার কাছে মনে হয় সফলতার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, যদি কেউ একাগ্রতা এবং নিষ্ঠার সাথে নিজের কাজকে ভালোবেসে তার পেছনে ছুটতে থাকে তবে সফলতা আসবেই ।’

আবির ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফির জন্য ৩০টিরও বেশি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে- ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০ এর বঙ্গবন্ধু ইয়ুথ আর্ট কম্পিটিশনে ফটোগ্রাফি ক্যাটগরিতে প্রথম পুরস্কার, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের তর্জনী প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান,  HIPA-(Humanity) Hamdan Bin Mohammad Bin Rashid Al Maktoum International Photography Awards (HIPA)-২০২০-এর ফাইনালিস্ট, বগুড়া জেলা পুলিশ আয়োজিত ফটো ফিভার ড্রাগস নেভার ২০১৮-এ অনারেবল মেনশন, জাতীয় ছবি প্রতিযোগিতা এবং Thousand Stories, Season-2 আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

ডকুমেন্টারি এবং ট্রাভেল ফটোগ্রাফি হচ্ছে আবির মাহমুদের  পছন্দের বিষয়। মানুষের জীবন এবং প্রকৃতির মাঝে লুকানো হাজারো গল্পকে ধারণ করার চেষ্টা করেন ক্যামেরার লেন্সে। ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে নিজের পুরস্কার থেকে অর্জিত অর্থ জমিয়ে একটি হাসপাতাল তৈরি করার, যেখানে অসহায় মানুষ এবং প্রাণিদের জন্যে থাকবে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা।  

নতুনদের জন্যে আবিরের পরামর্শ হলো, যারা ফটোগ্রাফিতে নতুন আসতে চায় তাদেরকে বলবো কখনো ধৈর্য হারা হওয়া যাবে না, ক্যামেরা সেটআপ যাই থাকুক না কেন কষ্ট করে ধরে রাখতে হবে। 

যে ফটোগ্রাফি তাকে এতটা সাফল্য দিলো সেই ফটোগ্রাফিতে  অনুপ্রেরণা কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফটোগ্রাফিতে আমার অনুপ্রেরণা ছিলেন শ্রদ্ধেয় ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার জিএমবি আকাশ স্যার এবং বগুড়ার ফটোগ্রাফার আব্দুল মোমিন  ভাই। 

বিষয় : ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরি আলোকচিত্রি আবির মাহমুদ পুরস্কার বিজয়ী

মন্তব্য করুন