আষাঢ়ের প্রথম দিন ছিল বুধবার। বর্ষার আগমনেরও দিন। এদিন থেকেই প্রকৃতিতে বাদল ঝরা শুরু হয়। দিগন্তবিস্তৃত মেঘের ঘনঘটা শেষে বৃষ্টির সিক্ততায় ভিজে যায় মাঠ-ঘাট আর অবারিত সবুজের প্রান্তর। নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা আয়োজনে বুধবার বর্ষাকে বরণ করেছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ভেতরের সবুজ চত্বরে বর্ষা উৎসব উদযাপন করে বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ। সকাল সাড়ে ৭টায় যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষাবরণের এ আয়োজন। এরপর বর্ষাকথন পর্বে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নূরুল হুদা, সাহিত্যিক ও গবেষক ড. হায়াৎ মামুদ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। ধরিত্রীকে সবুজ করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে শিশু-কিশোরদের মাঝে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, প্রিয়াংকা গোপ, অণিমা রায়, তানভীর সজীব, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, রত্না সরকার ও নবনীতা জাইদ চৌধুরী। আবৃত্তি করেন আহকাম উল্লাহ, মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল ও নায়লা তারাননুম চৌধুরী কাকলি। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নাচের দল স্পন্দন, নৃত্যাক্ষ, সুরবিহার, নিকস্ফণ পারফরমিং আর্ট সেন্টার ও নৃত্যজন। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন বহ্নিশিখা, স্ব-ভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, পঞ্চভাস্কর, সুরবিহার ও সুর সাগর ললিতকলা একাডেমি।

বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কর্মহারা শ্রমিকদের জন্য রেশন চালুর দাবি জানিয়ে বর্ষা উৎসব উদযাপন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সকাল ৭টায় মেঘমল্লার রাগের ওপর জ্যোতি ব্যানার্জির সেতার বাদনের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয় এ উৎসব। অনুষ্ঠানে সমবেত গান পরিবেশন করে ঢাকা মহানগর সংসদ, উদীচী মিরপুর, বাড্ডা, লালবাগ, রায়েরবাজার ও সাভার শাখা।

নৃত্য পরিবেশন করে উদীচী কাফরুল শাখা ও নৃত্যশিল্পী মুক্তা ঠাকুর। আবৃত্তি করেন অনন্যা লাবনী পুতুল, বেলায়েত হোসেন ও মিজানুর রহমান সুমন। একক গান করেন বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি মেহেদী ফরিদ ও রেজাউল করিম টুলু। পথনাটক 'বরাক বাঁশ' পরিবেশন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের নাটক বিভাগ।

ঢাকা মহানগর উদীচীর সহসভাপতি হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে এর আগে বর্ষাকথন পর্বে বক্তৃতা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে ও অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী।

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে বর্ষণমুখর বিভিন্ন গান, কবিতা ও নাচের মাধ্যমে 'বর্ষাকল্প ১৪২৯' অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষাকে বন্দনা করে বর্ষার গান 'রিমঝিম ঝিম, রিমঝিম ঝিম' গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। গানটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল হাসান।

এরপর সমবেত কণ্ঠে 'আজই নতুন রঙে প্রকৃতি সাজিয়ে দাও, পুরানো যা কিছু দাও গো মুছিয়ে', 'এসো শ্যামলও সুন্দরও', 'সৃষ্টি সুখের উল্লাসে', 'আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে', 'পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে' গান পরিবেশিত হয়।

এ সময় 'হৃদয় আমার নাচেরে ময়ূরের মতো নাচেরে' গানের তালে নাচেন শিল্পীরা। বর্ষাকে আহ্বান জানিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তি সংসদ। উদীচী ছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ নেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমিসহ অন্যান্য সংগঠন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও নাট্যজন মাসুম আজিজ, একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীতশিল্পী ও উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল।