ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কোমল থাকুক শিশুর ত্বক

যত্ন

কোমল থাকুক শিশুর ত্বক

.

শিরিন আক্তার

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:৫৪

প্রকৃতিতে শীত আসে স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে। শীত প্রভাব রেখে যায় আমাদের জীবনযাত্রার নানা ক্ষেত্রে। বয়সভেদে বৈচিত্র্য ভিন্ন রকম। ত্বক, খাবার, পোশাক, বাসস্থান– সব কিছুর জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়।  সবচেয়ে গুরুত্ব পায় শিশুরা। কারণ শিশুরা সহজেই কাবু হয়ে যেতে পারে শীতের কাছে। এ কারণে শিশুর ত্বকের যত্ন নিতে হবে বেশ সচেতনভাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর তুলতুলে গাল, ত্বক মানেই নিজ দায়িত্বে তেল মেখে লাল করা যাবে না। বরং শিশুর ত্বকের যত্ন নিতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। এ ব্যাপারে ডার্মাটোলজিস্ট ও রিজুভা অয়েলনেসের ফাউন্ডার ডা. তৌহিদা রহমান ইরিন দিয়েছেন নানা পরামর্শ। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই পরামর্শগুলো।  
শীতের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকরা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। কারণ আমাদের দেশের শীতটা বেশ বৈচিত্র্যময়। কখনও কখনও শীতের হিমেল আবহাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হয়, আবার কখনও শীতের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, হঠাৎ করে কমেও যায়। বাতাসের আর্দ্রতা কিন্তু ঠিকই কম থাকে। সে ক্ষেত্রে ত্বক পানিশূন্য হয়ে পড়ে।
শীতে শিশুরা পানি কম খায়। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুর ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। দইয়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে শরবত বানিয়ে দেওয়া যাবে। দুধকে ফ্লেভারড করে দুধের সঙ্গে বাদাম, সেফরন মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। কোনোভাবেই ত্বক হাইড্রেট হতে দেওয়া যাবে না। পানিসমৃদ্ধ ফলমূল খাইয়ে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।  
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তৌহিদা রহমান বলেন, এরপর আসা যাক গোসলের বিষয়টাতে। শিশুদের কুসুম গরম পানিতে গোসল করাতে হবে। বাথটাবের পানি অত্যধিক গরম হবে না। বাথজেল, বডিওয়াশ, সোপ ফ্রি, অ্যালকোহল ফ্রি, অ্যালার্জি ফ্রি সোপবার ব্যবহার করতে হবে। খুব ছোট বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে গোসলের আগে অলিভ অয়েল, বেবি অয়েল, কোকোনাট অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে গোসল করিয়ে নিতে হবে। কারণ ছোট শিশুদের ত্বক খুব সেনসেটিভ থাকে। পানি থেকে উঠিয়ে খুব আলতোভাবে গা মুছে ফেলতে হবে এবং ময়শ্চারাইজড লোশন লাগাতে  হবে; যাদের ত্বক বেশি শুষ্ক ক্রিম বা ইমোলেন্ট ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
শীতের এ সময়টায় অনেকে ভেকেশনে বাইরে যান। তখন শিশুদের সি-সল্ট পানি বা ক্লোরিন পানিতে বেশিক্ষণ রাখবেন না। গোসলের আগে ময়শ্চারাইজার সানস্ক্রিন 


ব্যবহার করবেন। তাতে পানিটা সরাসরি শিশুর ত্বকে মিশবে না। ছয় মাস বয়সের পর থেকে কিডস সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে। তবে এসফিএফ ৩০-৫০ দেখে নেবেন। জোজবা অয়েল, অলিভ অয়েল, ভিটামিন-ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পেন্থানল ইত্যাদি উপাদান থাকলে সানস্ক্রিন ব্যবহার উপযোগী হবে।
শিশুর ত্বকের যত্নে এবার আসা যাক পোশাকের বিষয়টায়। খুব আঁটোসাঁটো পোশাক কখনও পরাবেন না শিশুদের। একটু লুজ ফিটিংস পোশাক পরানো ভালো। ফেব্রিক্সের ক্ষেত্রে বলা যায় টেক্সটাইল অ্যালার্জি, এপিডার্মিস ড্রাই স্কিন, একজিমা থাকলে নাইলন, সিনথেটিক, ফার, উলেন বা ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে এমন পোশাক কখনও পরাবেন না। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। ত্বকে র‌্যাশ, ফুসকুড়ি, ইচিং বা চুলকানি হতে পারে। এমনকি সেকেন্ডারি ইনফেকশনও হতে পারে। বাচ্চাদের হুডি পরাবেন। কটনের কাপড় দিয়েও ফ্যাশনেবল পোশাক তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে। এতে শিশুর ত্বক ভালো থাকবে।
পোশাক ধোয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে শিশুর পোশাক ধুবেন না। ক্ষারমুক্ত সাবান বেছে নেবেন।
শীতের এ সময়টায় শিশুরা ভাজাপোড়া বেশি খায়। শুধু তা-ই নয়, এসব খাবারের সঙ্গে তারা কমার্শিয়াল প্রিজার্ভড সস খায়; যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া ফ্রোজেন ফ্রায়েড ফুড, জাঙ্ক ফুড অনেক সময় ত্বকে নানা সমস্যা যেমন অ্যালার্জি, অ্যাজমা, এপিডার্মিস, একজিমা রোগের সৃষ্টি করে।  ত্বক ভালো রাখার জন্য এসব খাবার থেকে দূরে রাখতে হবে শিশুদের। ঋতুভিত্তিক ফল, পালং শাকের স্যুপ বা অন্যান্য সবজি বেশি পরিমাণে শিশুর তালিকায় রাখতে হবে। তবেই শিশুর ত্বক হবে স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যবান।

আরও পড়ুন

×