ঝকঝকে, উজ্জ্বল, পেলব, মখমলের মতো ত্বক, তাও আবার বাড়িতে বসে! সোনার পাথরবাটির মতো শোনাচ্ছে? আসলে শরীরের যেমন বিভিন্ন কাজ করতে সময়ে সময়ে খাবারের দরকার হয়, তেমনই ত্বকেরও সুন্দর এবং সুস্থ থাকার জন্য খাবার, অর্থাৎ পুষ্টির প্রয়োজন। আর ত্বকের পুষ্টিতে যদি কোনো ঘাটতি না থাকে, তাহলে তার পরিচয় আপনার মুখে ফুটে উঠতে বাধ্য। নিশ্চয়ই ভাবছেন, ত্বকের উপযুক্ত খাবারগুলো কী কী? সে কথা বলতেই তো আসা।
কম-বেশি সবাই সাপ্তাহিক রূপচর্চায় বিশ্বাসী। এই ধরনের লোকের সংখ্যাই বেশি। পাঁচ মিনিটে ত্বকের জেল্লা বাড়ানো গেলে আর দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করতে যাবেন কেন! ত্বকে ইন্সট্যান্ট জেল্লা আনতে একাধিক ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। তবে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিলে যে ফলটা পাবেন, তা কিন্তু কখনোই এই ইন্সট্যান্ট প্যাকে আসবে না। বলাই বাহুল্য, তা দীর্ঘস্থায়ীও হবে না। তবে সময়ের অভাব থাকলে উপায় তো আর কিছু নেই। ১০টি সহজ রেসিপি শিখিয়ে দিচ্ছি। নিয়মিত এই প্যাকগুলো ব্যবহার করলে সার্বিকভাবে ত্বকের উপকারই হবে। চলুন ত্বকে ইনস্ট্যান্ট জেল্লা আনার রেসিপিগুলো শিখে নেওয়া যাক।

আধ চা-চামচ হলুদগুঁড়া এবং চার চা-চামচ বেসন পরিমাণমতো দুধ দিয়ে গুলে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। মুখে এবং গলায় এই প্যাক লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হলুদে ত্বকের উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এই প্যাক ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। সপ্তাহে দু'বার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

গাজর ঝিরিঝিরি করে কেটে রস বের করে নিন। এতে অল্প মধু এবং সামান্য টকদই মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। গাজরে থাকে ভিটামিন এ, যা ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক মসৃণ থাকে। সপ্তাহে একবার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। একবার ব্যবহার করলেই দেখবেন ত্বক উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।

ত্বক নরম থাকলে এবং ত্বকে আর্দ্রতার পরিমাণ সঠিক থাকলে ত্বক এমনিতেই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখাবে। আর এই দুইয়ের জন্যই অ্যালোভেরা মোক্ষম দাওয়াই। এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, এক চা-চামচ মধু এবং এক চা-চামচ দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এক চা-চামচ বেকিং সোডা, এক চা-চামচ মধু এবং আধ চা-চামচ অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এবং ত্বকের পিএইচ লেভেল সঠিক রাখতে বেকিং সোডা অব্যর্থ। ১০ মিনিট এই প্যাক মুখে লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই পার্থক্য দেখতে পাবেন।
পাতিলেবু ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে ত্বককে পরিস্কার রাখে এবং ট্যানও দূর করে। ফলস্বরূপ ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়। এক চা-চামচ পাতিলেবুর রস এবং এক চা-চামচ চিনি মিশিয়ে সার্কুলার মোশনে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। খুব আলতোভাবে ম্যাসাজ করবেন। চিনি গলে গেলে মুখ ধুয়ে নিন। ত্বক উজ্জ্বল এবং দীপ্তিময় দেখাবে।

ভিটামিন এ এবং সির অন্যতম প্রধান উৎস পেঁপে। পেঁপেতে রয়েছে বিএইচএ যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করতেও সাহায্য করে। এক টেবিল চামচ পাকা পেঁপের কস্ফাথের সঙ্গে দুই চা-চামচ শসার রস এবং অর্ধেকট কলা চটকে মিশিয়ে মুখে লাগান। আধঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে চটজলদি জেল্লা আনতে এই প্যাক দারুণ কার্যকরী।

শরীরের টক্সিন দূর করতে যেমন গ্রিন টি উপকারী, তেমনই ত্বকের টক্সিন দূর করে ত্বক ভেতর থেকে পরিস্কার করতেও গ্রিন টির জুড়ি মেলা ভার। এক কাপ পানিতে দুই চা-চামচ গ্রিন টি দিয়ে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। দুই চা-চামচ এই গ্রিন টি লিকারে এক চা-চামচ ব্রাউন সুগার এবং আধ চা-চামচ ক্রিম মিশিয়ে মুখে লাগান। সার্কুলার মোশনে ঘষে ১০ মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

ত্বকে উজ্জ্বলতা আনতে গোলাপজলের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। এটি ত্বকে আর্দ্রতাও সঠিক রাখতে সাহায্য করে। টাটকা গোলাপজল আধঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এতে তুলা ডুবিয়ে মুখে চেপে চেপে লাগান। প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন। অথবা গোলাপজলের আইসকিউব বানিয়ে তাও ব্যবহার করতে পারেন। ভালো ফল পাবেন। া