সুস্থ জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রথম যোগ ও সুস্থতা উৎসব আয়োজন করে ঢাকা ফ্লো। ১৩ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে এ আয়োজন করেন যোগ প্রশিক্ষক সাজিয়া ওমর। ইভেন্টে ৬০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ২০ ফিটনেস শিক্ষক ও নিরাময়কারী এবং সহস্রাধিক লোক সুস্থ জীবনযাপনের থিম ঘিরে জড়ো হন।

সাজিয়া বলেন, 'বিশৃঙ্খল ট্রাফিক, জনসংখ্যার ঘনত্ব, বায়ুদূষণ সর্বোপরি সুস্থ জীবনযাপনের অভাবে ঢাকা দিন দিন বিষাক্ত নগরীতে পরিণত হচ্ছে। সুতরাং মানুষ ও এই গ্রহকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে আমাদের আরও বিবেকবান হওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক জীবনযাপনের পন্থা অবলম্বন করা উচিত।'

উদ্বোধনী অধিবেশনে সাজিয়া জানান, তিনি একটি সুস্থ সমাজ গঠনে প্রচেষ্টাকারী সবাইকে একই ছাদের নিচে নিয়ে আসতে ঢাকা ফ্লো সংগঠিত করেছেন। শুধু ব্যায়ামই সুস্থ জীবনযাপনের পরিচায়ক নয়; সুস্থ জীবনযাপন নির্ভর করে মন, শরীর, আত্মা, সমাজ, সম্প্রদায় ও দেশের ওপর। একা কেউ সুস্থ থাকতে পারে না। সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, আবেগ, বিশুদ্ধ বাতাস, সবুজ পৃথিবী ও বিশুদ্ধ পানির ওপর। তিনি একটি স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ঢাকার স্বপ্ন দেখেন।

ইভেন্টের মূল বার্তাগুলোর মধ্যে ছিল- যোগব্যায়াম মানুষকে স্ট্রেস মোকাবিলা করতে এবং শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা কমাতে সাহায্য করতে পারে; ধ্যান এবং মননশীলতা একাগ্রতা, সহানুভূতি, শান্তি ও সম্প্রদায়ের চেতনা উন্নত করতে পারে। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও উন্নত পুষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান আমাদের ফিটনেস এবং অভ্যন্তরীণ শান্তির দিকে যাত্রায় ব্যাপকভাবে অবদান রাখতে পারে।

গুলশান সোসাইটির সঙ্গে অংশীদারিত্বে ঢাকা ফ্লো পাবলিক প্লেসে জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে ইভেন্টের ব্যবস্থা করেছে। যা প্রত্যেককে সুস্থভাবে বাঁচতে উৎসাহিত করবে। অনুষ্ঠানের জন্য সাজিয়ার কয়েকটি স্তম্ভ ছিল। ইন্টারস্পিড দ্বারা পরিচালিত অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণরূপে প্লাস্টিক বর্জ্যমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব ছিল। অংশগ্রহণকারী কোনো কোম্পানি পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করেনি। পরিবেশ-শৈল্পিক অনুভূতি নিশ্চিত করতে নান্দনিকতার দিকে নজর রেখে কাপড়ের ক্যানভাস, বাঁশ ও পাট দিয়ে স্টল তৈরি করা হয়েছিল।

কোনো প্লাস্টিকের বোতল বিক্রি হয়নি। পরিবর্তে সবাই ইউনিলিভারের পিউরিটের বিশুদ্ধ পানি উপভোগ করেছেন। এ ইভেন্টে ১৪ জন খাদ্য বিক্রেতা ছিলেন। যাঁরা প্রত্যেকেই বিশুদ্ধভাবে নিরামিষ খাবার ডিজাইন করার চ্যালেঞ্জ বা সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন। জীবের প্রতি অহিংসা ছিল এই অনুষ্ঠানের অন্যতম স্তম্ভ। চূড়ান্ত স্তম্ভটি ছিল প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতার। কারণ, সব বিক্রেতা এবং প্রশিক্ষকের একে অপরকে ক্রস প্রমোট করতে বলা হয়েছিল।

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা তুরান এবং সুইস রাষ্ট্রদূত নাটালি চুয়ার্ডও যোগব্যায়ামে তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাসকে জীবনের ইতিবাচক উপায় হিসেবে প্রকাশ করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনেকে নিজস্ব উপায়ে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত আছেন দেখে সাজিয়া রোমাঞ্চিত। ঢাকা ফ্লো, ইস্ট বেঙ্গল কফি গ্রাইন্ডার, মামাস টার্টস, এলিয়েনস, ফিথোবো ডটকম, মোয়ার কো-ওয়ার্কিং স্পেস, স্মার্ট এয়ার, জাস্ট এসএক্সওয়াই স্পোর্টসওয়্যারসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি স্টার্টআপ প্রদর্শন করেছে। হোয়াইট বোর্ড একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিপাদ্য ঘিরে নাগরিকদের কণ্ঠস্বর রেকর্ড করতে অংশ নেয়। বেসক্যাম্প পার্কের দর্শকদের একটি ৫০ ফুট গাছে আরোহণের সুযোগ দেয়। ক্লে স্টেশন, অরণ্য এবং আর্ট ফর দ্য সোল মানুষকে সৃজনশীল হওয়ার জায়গা দিয়েছে। অ্যাকোয়া পেইন্টস, গ্রোয়িংআপ ক্লাব এবং কল্পতরু কিডস জোনকে সক্রিয় রেখেছে।

মূল স্পনসর তুরাগ অ্যাক্টিভ একটি স্থানীয় ডিজাইনার স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড যোগীদের যোগব্যায়াম প্যান্ট দেয়। আড়ং আর্থ, অর্গানিক স্কিন কেয়ার অ্যান্ড হেয়ার কেয়ার প্রডাক্টস এবং প্রাইম ব্যাংকের সবুজ অর্থায়নে ইভেন্টটি সম্ভব হয়েছে। এসিআই নিউট্রিলাইফ তাদের স্বাস্থ্যকর শস্যপণ্য প্রদর্শন করেছে। অ্যাপেক্স স্প্রিন্ট রিসাইকেলড প্লাস্টিকের বোতল থেকে তৈরি জুতা প্রদর্শন করেছে। ক্যালসিপ্লাস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্যালসিয়াম ফর্টিফাইড মিল্ক্ক প্রদর্শন করেছে। সজীব গ্রুপ আইসোবুলার ভুসিকে অন্ত্র সুস্থ রাখার একটি ঐতিহ্যবাহী এবং কার্যকর উপায় হিসেবে প্রদর্শন করেছে। ব্লেন্ডার চয়েস ইস্পাহানি চা প্রদর্শন করেছে গ্রিন টি এবং সাজিদা ফাউন্ডেশন 'কান পেতে রই', 'স্বজন', সুইসাইড হটলাইন এবং মেন্টাল হেলথ পরিষেবা প্রদানকারীকে প্রদর্শন করেছে। ইভেন্টের অন্য স্টলগুলোর মধ্যে ছিল অনলাইন ফার্মেসি, মুভমেন্ট সলিউশন, ফিজিওথেরাপিস্ট, ঢাকা আয়ুর্বেদ সেন্টার ইত্যাদি। া