ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

যাপন

হবু মায়ের পোশাক

হবু মায়ের পোশাক

শাহিনা নদী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪ | ১০:২৭

গর্ভাবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক খাওয়া-দাওয়া, রুটিনমাফিক শারীরিক চেকআপ যেমন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ পরিধেয় পোশাকটি। কারণ, স্বাভাবিকভাবেই এ সময় মেয়েদের ওজন দ্রুত বাড়ে এবং সেই সঙ্গে অনেক বেশি গরমও অনুভূত হয়। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের পর থেকে হবু মায়ের শারীরিক নানা পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ফলে দৈনন্দিন জীবনধারায় আসে বেশ কিছু ভোগান্তি। হবু মায়েদের পোশাক নিয়ে ভোগান্তি কিছুটা কমাতে পারে আরামদায়ক ও স্বস্তিকর পোশাক। 
যেমন হবে হবু মায়ের পোশাক: গর্ভাবস্থায় মায়েদের প্রয়োজন সহজে পরিধেয় পোশাক, যা তাদের চলাফেরা ও শরীরচর্চার জন্য উপযোগী। আগে হবু মায়েদের পোশাক নিয়ে আলাদাভাবে কোনো ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি কাজ করেনি। ফলে গতানুগতিক ধারা অনুযায়ী, আমাদের দেশের বেশির ভাগ হবু মা এ সময় আরামের পোশাক হিসেবে বেছে নিতেন ম্যাক্সি। যদিও এখনও অনেক নারীই প্রেগন্যান্সির জার্নি থেকে শুরু করে সন্তান জন্মদান-পরবর্তী সময় পর্যন্ত ম্যাক্সি পরে থাকেন। ক্ষেত্রবিশেষে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন; কারণ বেশির ভাগ নারীই এখন কর্মজীবী। সেজন্য ঘরের ভেতরে ম্যাক্সি পরে থাকলেও বাইরে বেরোতে হলে আলাদা পোশাকের প্রয়োজন পড়ে। ফলে পোশাক নিয়ে বিভিন্ন সময় একটু বিপাকেই পড়তে হয় তাদের। একদিকে আরামদায়ক পোশাক, অন্যদিকে ফ্যাশন– উভয় দিকে নজর রাখতে চান তারা। সেজন্য হবু মায়েদের চাহিদা অনুযায়ী সময়োপযোগী বিভিন্ন আরামদায়ক পোশাক নিয়ে কাজ করছেন ডিজাইনাররা।  
‘রঙ বাংলাদেশ’-এর ডিজাইনার মাধুরী সঞ্জিতা বলেন, ‘প্রত্যেক মেয়ের জীবনে গর্ভকালটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় হরমোন পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ মায়েদের গরম অনুভূত হয়। সেজন্য পোশাকটি যাই হোক না কেন, খেয়াল রাখতে হবে সেটি লুজ ও আরামদায়ক কিনা। ফেব্রিক হিসেবে পাতলা ভয়েল, কটন কিংবা লিনেন এ ধরনের কাপড় হবু মায়েদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। বটমস হিসেবে এ সময় দড়ি দিয়ে বাঁধা পেটিকোট কিংবা পায়জামা পরিধান করা ভালো।  
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের বেশির ভাগ নারী গর্ভকালীন পোশাক দিয়েই সন্তান জন্মদান-পরবর্তী সময় কভার করে থাকেন। সেজন্য তারা পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব পোশাক হাফ বডি ফারা, সামনে বোতাম, হুক বা চেইন ইত্যাদি ডিজাইনের সেগুলো প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।’ 
লা রিভের ডিজাইনার মারুফা শিল্পী বলেন, ‘এ সময় কুচি করা, ফ্রন্ট ওপেনিং ডিজাইনের ঢিলেঢালা পোশাক হবু মায়েদের জন্য আরামদায়ক। এ ছাড়া প্লেইন কিছুর সঙ্গে শার্ট পরিধানেরও স্বস্তি মিলবে অনেকখানি। ফেব্রিক হিসেবে কটনের পাশাপাশি ভিসকস, পাতলা জর্জেট কাপড় পরিধান করা যেতে পারে। তবে বটমস পরিধানের ক্ষেত্রে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। সালোয়ারের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ইলাস্টিক ব্যবহার করা যাবে না। তার বদলে ফিতা ব্যবহার করা ভালো; তাহলে পেটে চাপ লাগবে না এবং হবু মা তাঁর সুবিধা অনুযায়ী ঢিলেঢালা করে নিতে পারবেন।’
সালোয়ার-কামিজ বা কুর্তির ক্ষেত্রে পেটের অংশে যথেষ্ট ঢিলাঢালা রাখা হচ্ছে যেন তা চেপে না থাকে। গাউন কিংবা স্কার্ট রয়েছে ঢিলেঢালা স্মুথ ডিজাইনের। এ ছাড়া হবু মায়েরা বেছে নিতে পারেন লিনেন কাপড়ে তৈরি টপস। টপসের আকারেও রয়েছে ভিন্নতা। ব্লক আর স্ক্রিনপ্রিন্ট ছাড়াও নানা ধরনের কাজ রয়েছে এ ধরনের পোশাকগুলোয়। টিউনিক কিন্তু বহুকাল ধরেই ফ্যাশনের ক্ষেত্রে একটি জায়গা করে নিয়েছে। এ পোশাকটি তুলনামূলক ঢিলেঢালা হওয়ায় গর্ভাবস্থায় পরার জন্যও উপযোগী। 
এ সময় ফ্যাশনেবল আরেকটি পোশাক হতে পারে ঢিলেঢালা কাফতান। যেহেতু এ সময় খুব দ্রুত স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটে। প্রায় প্রতি সপ্তাহ থেকে শুরু করে প্রতি মাসেই এ সময় স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটে এবং সে পরিবর্তনগুলো চোখে পড়ার মতো। সেই ক্ষেত্রে ফ্রক হতে পারে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য অন্যতম একটি পোশাক। হবু মায়েদের পোশাক ডিজাইনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে  খোলামেলা বড় গলার ডিজাইন। বিশেষ করে গেঞ্জি গলার ডিজাইন বেছে নিচ্ছেন ফ্যাশনপ্রেমী মায়েরা। বটমস হিসেবে ঢোলা প্যান্ট, পালাজ্জো, ঢোলা পায়জামা ইত্যাদি এ সময়কার জন্য খুবই উপযোগী। সুতি বা লিনেনের কুর্তির সঙ্গে লেগিংসও খুবই মানানসই। জিন্স বা অন্যান্য প্যান্ট পরতে চাইলেও খুব আঁটসাঁট নয়, ঢিলেঢালা পরার চেষ্টা করবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, পরিধেয় পোশাকটি যেন সিল্কি, খসখসে ইত্যাদি ফেব্রিকের না হয়। কারণ, এ ধরনের পোশাক পরিধানে র‍্যাশ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি করে।   
দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেটে পেয়ে যাবেন হবু মায়ের পোশাক। অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পেয়ে যাবেন পছন্দের পোশাক। এ ছাড়া নিজের মনের মতো গড়ে নিতে চাইলে পছন্দের প্রিন্ট ও ডিজাইনে দর্জি দিয়ে বানিয়ে নিন। v
ছবি সৌজন্য: কইন্যা

আরও পড়ুন

×