মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মুসা বলেছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় মোংলা বন্দরের সক্ষমতাকে অধিকতর কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের তুলনায় মোংলা বন্দরের দূরত্ব অনেকটা কম হওয়ায় মোংলা বন্দর ব্যবহার করার জন্য আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারকদের আগ্রহ বেড়েছে। বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এ বন্দর আন্তর্জাতিক অন্যান্য বন্দরের পর্যায়ে পৌঁছবে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে সরাসরি অর্থনীতিতে আরও ব্যাপক আকারে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার মাস খানেকের মধ্যেই মোংলা বন্দর এর সুফল পেতে শুরু করেছে। বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের গার্মেন্ট মালিক, যাঁরা এত দিন মোংলা বন্দর ব্যবহারে অনীহা দেখিয়েছেন, তাঁরাই এখন এ বন্দর দিয়ে বিদেশে গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানি করতে শুরু করেছেন। তৈরি পোশাকের প্রথম চালান ঢাকা-গাজীপুর-সাভার ও নারায়ণগঞ্জের ২৭টি কারখানার গার্মেন্ট পণ্যবাহী ১৭টি কনটেইনার পদ্মা সেতু হয়ে সম্প্রতি মোংলা বন্দর জেটিতে পৌঁছে। পরে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে পানামার পতাকাবাহী এমভি মার্কস নেসনা জাহাজে বোঝাই করা শেষে গত ২৮ জুলাই বন্দর ত্যাগ করে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিশুর পোশাক, জার্সি ও কার্ডিগান, টি-শার্ট, ট্রাউজারসহ বিভিন্ন পণ্য। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের ১৭টি কনটেইনারে গার্মেন্ট পণ্য নিয়ে জাহাজটি যাবে পোল্যান্ডে।

বন্দর চেয়ারম্যান আরও বলেন, মোংলা বন্দর হয়ে এসব গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানির বিষয়টি স্মরণীয় ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এক মাসের মধ্যে সেতু হয়ে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানির নবযাত্রা শুরু হলো। ভবিষ্যতে এ বন্দর দিয়ে রপ্তানি আরও বাড়বে।

বন্দর চেয়ারম্যান জানান, পদ্মা সেতুকে টার্গেট করে বন্দর কর্তৃপক্ষের নেওয়া ৮টি বিশেষ প্রকল্পের কাজ অনেকটা শেষের দিকে। যে কারণে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরপরই বন্দরের অপারেশন কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটছে না। তবে হারবাড়িয়া থেকে বন্দর জেটি এলাকায় চলমান ইনারবার ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় জেটি এলাকায় ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আসতে পারছে না। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জেটিতে অনায়াসে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজের আগমনে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। তিনি মনে করেন, ভাঙ্গা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৪ লেনের সড়ক তৈরি, খুলনা-মোংলা রেললাইন এবং খানজাহান আলী বিমানবন্দর দ্রুত চালু হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও বিশেষ কিছু প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আগামী ৩ বছরের মধ্যে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও প্রায় তিন গুণ বাড়বে। এর ফলে এ বন্দর হবে আরও কর্মচঞ্চল, গতিশীল ও আধুনিক।

তিনি বলেন, 'সময় এবং অর্থ সাশ্রয় হওয়ায় আমদানিকারকরা এ বন্দরকে বেছে নিচ্ছেন। পদ্মা সেতু চালুর পর ব্যবসায়ীদের নতুন করে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমদানির পর দ্রুতই মোংলা থেকে সড়কপথে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় গাড়ি ঢাকায় নেওয়া সম্ভব। এতে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লাভবান হবেন। সড়ক ব্যবস্থায় উন্নতি হওয়ায় আমদানি বৃদ্ধিসহ এ বন্দরে ব্যাপক কর্মযজ্ঞের সৃষ্টি হবে বলে আশা তাঁর।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ৬০ শতাংশ গাড়িই মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়েছে। ওই অর্থবছরে দেশের দুই বন্দরে গাড়ি আমদানি হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৮৩টি। এর মধ্যে মোংলা বন্দর দিয়ে এসেছে ২০ হাজার ৮০৮ এবং চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এসেছে ১৩ হাজার ৯১৩টি গাড়ি। মোংলা বন্দরে গাড়ি আমদানি দিন দিনই বেড়ে চলছে।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনিরুল হায়দার ইকবাল