পদ্মা সেতুতে যে সিমেন্ট, রড, বৈদ্যুতিক কেবল, পাইপ প্রভৃতি উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে তার অনেকটাই বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত। একটু বলে রাখা ভালো, পদ্মা সেতুতে যে ট্রাস ব্যবহার করা হয়েছে (ট্রেন যে প্ন্যাটফর্মে চলবে, তার পাশে সমবাহু ত্রিভুজের সমন্বয়ে গঠিত কাঠামো), সেটা স্টিল বা ইস্পাতের তৈরি। এই ইস্পাতের উপকরণ বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। বিবিসি বাংলার করা একটি প্রতিবেদন অনুসারে পদ্মা সেতুর পাইলের স্কিন গ্রাউটিংয়ের জন্য যে মাইক্রো-ফাইন সিমেন্ট আনা হয়েছে সেটা বাংলাদেশের নয়, সেটা আনা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে; যার প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা (৫০ কেজি সিমেন্ট থাকে একেকটা ব্যাগে)। এতক্ষণ বলা হলো বিদেশ থেকে কী কী আনা হয়েছে। তবে এগুলো ছাড়াও পদ্মা সেতুতে আড়াই লাখ টনের বেশি সিমেন্ট লেগেছে; যার পুরোটাই দেশে উৎপাদিত। সেতু বিভাগ বলছে, রড বা রিইনফোর্সমেন্ট বার যেটা ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা প্রায় ৯২ হাজার টনেরও বেশি। এটাও বাংলাদেশের। এখনকার সিমেন্ট ও রড কোম্পানির বিজ্ঞাপনগুলোতে তাদের পণ্য যে পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যবহূত হয়েছে, এই কথাটা ব্যাপকভাবে প্রচার পাচ্ছে।
প্রতিটি জিওব্যাগের ভেতর বালু দিয়ে ভর্তি করা লাগে। তা ছাড়া সিমেন্টের সঙ্গে বালু মিশিয়ে কংক্রিটিংয়ের কাজ করতেও বালু লাগে। যে কোনো পুরকৌশলীয় কাজে বালুর প্রয়োজন রয়েছে, পদ্মা সেতুও এর ব্যতিক্রম নয়। পদ্মা সেতুতে এ রকম বালু ব্যবহূত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। এই বালুও বাংলাদেশের। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেছে, পাইপ গেছে। বিদ্যুতের কেবল গেছে প্রায় পৌনে তিন লাখ মিটার এবং পাইপ গেছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মিটার। এগুলোও আমাদের দেশের পণ্য। এ ছাড়া আরও কাজে দেশি পণ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পদ্মা সেতুতে বিদেশিদের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা কাজ করেছেন। বিশেষত অভিগমন সড়ক ও পরিষেবা অঞ্চলের কাজ আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশি ঠিকাদাররা পেয়েছেন; কাজও করেছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা। এত বড় একটি প্রকল্পে বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের কাজ করা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অনুরূপ সেতু নির্মাণে কিংবা বাইরের দেশে গিয়েও কাজ করতে অনেক বেশি পরিমাণে সাহায্য করবে। এটা বাংলাদেশের জন্য সত্যিই খুব গর্বের বিষয়।