কোনো এক রূপকথার রাজ্যের আবহে তোলা একটা ছবি ক'দিন ধরে ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। খানিকটা বাঁক নেওয়া একটা স্থাপনা আর তার নিচে টলমলে পানিতে চোখ ঝলসে ওঠা আলোকচ্ছটার বিকিরণ। একটা সময় এই স্থাপনাটাকে রূপকথাই ভাবা হতো। কিন্তু এখন সেটি আর রূপকথা নয়, বাস্তবতা। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা পদ্মা সেতুর ছবি এটি।
পদ্মা সেতু! নামটা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে বুকের ভেতর কেমন যেন একটা ঢেউ খেলে যায়। একেবারে প্রমত্তা পদ্মার ঢেউয়ের মতোই। সেই ঢেউ যতটা না ভাঙে, তার চেয়েও বেশি গড়ে। স্মৃতির রোলার কোস্টার মনের ভেতর দিয়ে ওঠানামা করে অস্থির করে তোলে। সেই অস্থিরতায় যতটা না বেদনা আছে, তার চেয়ে সুখের পরশটাই যেন বেশি।
আমি কখনোই কোর্ট রিপোর্টার ছিলাম না। তবুও দুটি মামলা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাভার করতে হয়েছে। করার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না, চিফ রিপোর্টার অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে বলে দেননি- এটা ভালো করে কাভার করবে। কিন্তু কিসের যেন একটা অস্থিরতা নিয়ম করে প্রায় প্রতিদিনই কোর্টে নিয়ে যেত। প্রথমটা ছিল ঢাকায়- শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলা। ১৯৯৬ সালে ঢাকার শেয়ারবাজারের ভয়াবহ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর সেই সময়ের অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বলেছিলেন, শেয়ারবাজারের কারসাজির নায়কদের শাস্তি দিতে পারব কিনা জানি না। কিন্তু তারা অন্তত একবার আদালতের কাঠগড়ায় হাতজোড় করে দাঁড়িয়েছে- এই দৃশ্যটা দেখতে চাই। শেয়ারবাজার কারসাজির হোতারা আদালতে অন্তত একবার হাতজোড় করে দাঁড়িয়েছিল।
সেই মামলা চলাকালে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্ট- সবখানেই হাজির হয়েছিলাম সরেজমিন উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য। হেঁটে শেয়ারবাজারের সংবাদ সংগ্রহ করা একজন রিপোর্টার হিসেবে ১৯৯৬-এর শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সর্বস্ব খোয়ানো মধ্যবিত্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল। ফলে শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলাটি যখন সত্যি সত্যি বিচারের জন্য আদালতে ওঠে, তখন কোর্টই হয়ে উঠেছিল নিত্যদিনের গন্তব্য।
অনেক বছর পর আবার কোর্ট তেমনি আকর্ষণের জায়গা হয়ে ওঠে। তখন অবশ্য আমি আর সক্রিয় রিপোর্টার নই, কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশনের কোনো অ্যাসাইনমেন্টও ছিল না। তবু প্রায় প্রতিদিনই টরন্টোর ডাউন টাউনের ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউতে ছুটে গেছি, অন্টারিওর সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসের আদালতটা যেন প্রচণ্ড আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছিল। এই আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল পদ্মা সেতুতে 'দুর্নীতির ষড়যন্ত্র' মামলা।
নিম্ন আদালত থেকে মাঝখানে উচ্চ আদালতে গড়িয়েছিল মামলাটি। দূরত্বের কারণে অটোয়ায় সশরীরে আদালতে যাওয়া হয়নি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের মিডিয়া রিলেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের ফোনে আর ই-মেইলে অস্থির করে ফেলার ঘটনাগুলো মনে করে এখন কেমন হাসি পায়- কোনো রিপোর্টার কী এমন পাগল হয়!
বাংলাদেশের অহংকার পদ্মা সেতু আজ যখন সত্যি সত্যি মাথা উঁচু করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে, তখন এই সেতু নিয়ে কানাডার আদালতে আইনি লড়াইয়ের দিনগুলোর কথা প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেয়। একেবারে কাছ থেকে দেখা সেই আইনি লড়াইটা দেখার সুযোগ হয়েছিল- সেই স্মৃতিটাও কম কী!
মামলাটা আসলে পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে ছিল না; কিন্তু পদ্মা সেতু নিয়ে ছিল। ঠিক হয়েছিল আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করবে। সব কিছুই এগোচ্ছিল ভালোভাবে। হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাংক অভিযোগ তোলে- পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অভিযোগটা কিন্তু 'দুর্নীতি হয়েছে' নয়- 'দুর্নীতির ষড়যন্ত্র' হচ্ছে। সেই কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাংক আর বাংলাদেশ সরকারের টানাপোড়েনের মধ্যেই অভিযোগটা চলে আসে দ্য রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ-আরসিএমপির কাছে। বিশ্বব্যাংকের অনুরোধ আর তাদের দেওয়া তথ্য নিয়ে তদন্তে নামে আরসিএমপি। কানাডা সরকারের কাছে বিশ্বব্যাংকের অনুরোধটা এমন সময় আসে, যখন বিভিন্ন দেশের জনপ্রতিনিধিদের ঘুষ দিয়ে কানাডিয়ান কিছু কোম্পানির বড় বড় কাজ হাতিয়ে নেওয়া সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল সরকার। কানাডা তখন মাত্র 'করাপশন অব ফরেন পাবলিক অফিসিয়াল অ্যাক্ট' প্রণয়ন করেছে।
পদ্মা সেতু মামলাটি কানাডায় কেন এলো! কানাডার বৃহত্তম নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিন পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ পেতে টেন্ডারে অংশ নিয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, এসএনসি লাভালিন বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদের ঘুষ দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ পাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। পদ্মা সেতুতে ঘুষের অভিযোগের তদন্ত চলে যায় নতুন এই আইনের আওতায়। তদন্ত করতে আরসিএমপির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা পর্যন্ত যায়। অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম পাওয়া গেছে, কমবেশি প্রায় সবার সঙ্গেই কথা বলে আরসিএমপি।
একই সময়ে সমান্তরাল একটি তদন্তে নামে সিবিসি টেলিভিশন এবং গ্লোব অ্যান্ড মেইলের অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের যৌথ টিম। টেলিভিশন এবং দেশের অন্যতম বড় প্রিন্ট পত্রিকার যৌথ অনুসন্ধান। কানাডার সর্ববৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আর পদ্মা সেতু নিয়ে বিতর্কের প্রধান কুশীলব এসএনসি লাভালিনের দুর্নীতি এবং বিভিন্ন দেশের জনপ্রতিনিধিদের ঘুষ দেওয়ার অসাধারণ পদ্ধতিটি ফাঁস করে দিতে সমর্থ হয় সাংবাদিকদের এই অনুসন্ধানী দল। সাংবাদিকদের এই টিমটি তখন ঢাকায়ও যায়, অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের তো বটেই, নানাপক্ষের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তাঁরা এ নিয়ে কথা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেন। তদন্ত আর অভিযোগ মামলা হয়ে আদালতে গড়ায়, ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউর অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারক আয়ান নরডেইমারের আদালতে ন্যস্ত হয় পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলা। আবার আদালত যেন চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে যায়, শুরু হয় ভিনদেশি আদালতে সাংবাদিকতার নতুন অভিজ্ঞতার। সেটি অবশ্য সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকতারই অভিজ্ঞতার সংযোজন। আমি বরং নিজের অভিজ্ঞতার কথাই বলি।
কানাডার কোনো কোর্টে এটাই আমার প্রথম যাওয়া। তাও আবার পদ্মা সেতুর মতো হেভিওয়েট মামলার শুনানিতে। বলতে দ্বিধা নেই, বুকে এক ধরনের কাঁপন নিয়েই হাজির হয়েছি অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসের আদালতে। আদালত ভবনে প্রবেশের মুখেই খানিকটা ধাক্কা লাগে। আদালত ভবনের প্রবেশ পথে খানিকটা দূরত্ব রেখে এবং পথের আশপাশে বেশ কয়েকটি ক্যামেরা তাক করে রাখা আছে। কাছে গিয়ে জানা গেল এগুলো টেলিভিশনের ক্যামেরা। আদালত এলাকায় যেহেতু ছবি তোলা যাবে না- তাই আদালতের বাইরে ছবি তোলার সুযোগের অপেক্ষায় কানাডিয়ান সাংবাদিকরা। লক্ষ্য তাঁদের পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তরা।
আদালত কক্ষটি একেবারে পরিপূর্ণ। বাংলাদেশিদের অনেককেই সেখানে দেখা গেল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিরোধী সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী ও নেতাদের অনেকেই সেখানে আছেন। 'মাল্টি লেভেল' ব্যবসার নামে গ্রাহকদের প্রতারণার দায়ে শাস্তির মুখোমুখি হওয়া একটি কোম্পানির মালিকের আত্মীয়স্বজন এবং কোম্পানির কর্মকর্তাদের একটি গ্রুপ একসঙ্গে জটলা করে বসে আছে আদালত কক্ষে। পদ্মা সেতু মামলার শুনানিতে এরা কেন!
৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস রুমের মতো কক্ষে এজলাসে বিচারক। সামনে দুই পাশে বাদী এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা। বিবাদীপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে বসে আছেন এই মামলার অভিযুক্তরা। আসামির কাঠগড়া বলে আলাদা কোনো কিছু নেই। মিডিয়াকর্মী, মামলা দেখতে আসা মানুষ- সবাই আছেন আদালত কক্ষে।
বিচারকের পাশেই রাখা আছে বিশাল আকৃতির একটি মনিটর। প্রসিকিউশন যখন অভিযোগ নিয়ে কথা বলছেন- তখন মনিটরের পর্দায় ভেসে উঠছিল সংশ্নিষ্ট নথিপত্রগুলো। প্রসিকিউশন বিচারকের হাতে যেসব নথিপত্র তুলে দিয়েছেন, সেগুলো মনিটরের মাধ্যমে আমাদের দেখার সুযোগ হচ্ছিল। আমরা অবাক বিস্ময়ে কথিত দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণে কানাডার পুলিশের সংগ্রহ করা অতি গোপনীয়, স্পর্শকাতর, নথিপত্রগুলো দেখছিলাম।
শুনানির শুরুতেই বিচারক জানিয়ে দিয়েছিলেন, এ মামলায় 'পাবলিকেশন ব্যান' আছে। তার মানে হচ্ছে- দুর্নীতির ষড়যন্ত্র প্রমাণের জন্য পুলিশের সংগ্রহ করা যেসব নথিপত্র বা বক্তব্য শুনানিতে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেগুলো কোনো ধরনের মিডিয়ায় প্রকাশ করা যাবে না। শেষ পর্যন্ত আদালত যদি এই নথিপত্র মামলার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ না করেন তা হলে তো এগুলো সবই অকার্যকর হয়ে যাবে। এখন আদালতে শুনানিতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেই সেগুলো নিয়ে নিউজ প্রকাশ করা যাবে না- এটি হচ্ছে আদালতর স্পিরিট।
কিন্তু শুনানিতে প্রসিকিউশনের নথিপত্র উপস্থাপনের সময়ই আদালতে উপস্থিত বাংলাদেশিদের অনেকের মধ্যে একটা গুঞ্জন দেখা দেয়। রাজনৈতিকভাবে সরকারের বিপক্ষে এমন সাংবাদিক এবং দলীয় কর্মীদের অনেকেই নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে থাকেন- 'পাবলিকেশন ব্যান' তো কানাডার মিডিয়ার জন্য, আমরা তো রিপোর্ট করব বাংলাদেশে। নথিগুলো উপস্থাপনের সময় তাঁরা একে অপরকে নিশ্চিত করছিলেন- দুর্নীতিতে অমুকের নাম আছে, তমুকের নাম আছে। আমার পাশে বসা কানাডার টেলিভিশন সিবিসির সাংবাদিক উঠে যেতে যেতে বললেন- ইউ কান'ট রাইট অ্যানিথিং, দেয়ার ইজ অ্যা ব্যান। মাইন্ড ইট।
৬. বিরতি শেষে এজলাসে ফেরার পথে একপাশে দাঁড়িয়ে প্রসিকিউশনের একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন বিচারক। সাহসে ভর করে পাশে দাঁড়াতেই তিনি জানতে চাইলেন আমার কিছু জিজ্ঞেস করার আছে কিনা। আমি বিনীতভাবে জানতে চাইলাম :ইউর অনার, আপনি যে পাবলিকেশন ব্যান দিয়েছেন- সেটি কী কেবল কানাডিয়ান মিডিয়ার জন্য প্রযোজ্য? নাকি সারাবিশ্বের মিডিয়ার জন্যও সেটি প্রযোজ্য!
: কেন এই প্রশ্ন করছেন!
: আমি বাংলাদেশি মিডিয়ার জন্য লিখব। এই মামলাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসিকিউশন অনেক স্পর্শকাতর তথ্য উপস্থাপন করেছেন। সেগুলো প্রকাশিত হলে এক ধরনের সেনসেশন হবে। কিন্তু আপনার আদেশের ব্যত্যয় ঘটবে কিনা।
আমি জানালাম, এই মামলার খবর সংগ্রহ করতে নানা মতের বাংলাদেশি সাংবাদিক আদালতে আছেন এবং তাঁরা খবর পরিবেশন করবেন।
বিচারক পাবলিক প্রসিকিউটরের দিকে তাকালেন। মনে হলো ইশারায় তাঁরা কিছু একটা বললেন। কিন্তু কী বললেন, সেটি বোঝা গেল না।
এজলাসে উঠেই বিচারক আদালত কক্ষে উপস্থিত দর্শনার্থীদের বিশেষ করে বাংলাদেশিদের কাছে জানতে চাইলেন- তাঁদের কারও কোনো প্রশ্ন আছে কিনা। যাঁরা প্রশ্ন করবেন- তাঁদের নিজেদের পরিচয় দেওয়ার জন্যও বললেন বিচারক। বাংলাদেশিদের বেশ কয়েকজন প্রশ্ন করতে উঠে নিজেদের মতামত দিলেন, বিচারককে ধন্যবাদ জানালেন। বিচারক বললেন, পাবলিকেশন ব্যান সম্পর্কে তিনি একটা ক্লারিফিকেশন দেবেন।
তিনি জানিয়ে দিলেন, এই নিষেধাজ্ঞা কানাডা এবং কানাডার বাইরে বিশ্বের সব দেশের সব ধরনের মিডিয়ার জন্য প্রযোজ্য। কানাডিয়ান আদালতের নাম দিয়ে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র নিয়ে কল্পকাহিনি প্রচারের পথ বন্ধ করে দেন আদালত।
এগুলো ২০১৩ সালের কথা। তারপর থেমে থেমে নানা পথ বেয়ে এগিয়েছে এই মামলার কার্যক্রম, আর একজন রিপোর্টারের ঝুলিতে জমা হয়েছে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা। ২০১৩ থেকে ২০১৭, ডাউন টাউন টরন্টোর ৩৬১ ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউর সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসের আদালতে এসেই মামলাটির নিষ্পত্তি ঘটে। ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত এই মামলার সব অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিলে মামলাটি অকার্যকর হয়ে যায়।
পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে- এমন একটি অভিযোগের বিচার হচ্ছে বিদেশি একটি আদালতে, এর সঙ্গে জন্মভূমি প্রিয় বাংলাদেশের সম্মান ও ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত, সেই বোধই মামলাটির প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিল একজন রিপোর্টারকে। মামলাটির গতিবিধির প্রতি তীক্ষষ্ট মনোযোগ ছিল অন্তরের টানেই। সেই টানেই প্রতিটি শুনানির দিনেই ছুটে যেতে হয়েছে ৩৬১ নম্বর ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউর ভবনটিতে।
লেখক :সাংবাদিক