চোখের পলকে গ্রাম বিলীন। ভাঙনে তটস্থ গোটা জনপদ। স্বজন হারানোর আহাজারি যে প্রমত্তা পদ্মা কানে তোলেনি, তার বুকে হবে সেতু! ১৯৮৬ সালে পদ্মা নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি তুলে মানুষের কাছ থেকে 'পাগল' তকমা পান সাবেদুর রহমান খোকা সিকদার ও আব্বাস উদ্দিন আনসারী। কিন্তু স্বপ্নবাজরা কখনও দমে যান না। পাছে লোকের কিছু বলাও কানে তোলেন না। লক্ষ্য পূরণে করে যান নিজের কাজটুকু। সময়ের ব্যবধানে খোকা সিকদারের স্বপ্ন এখন বাস্তব। প্রমত্তা পদ্মাকে শাসন করে তার বুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গড়েছেন সেতু। এই সেতু এখন সাহসের প্রতীক, বাংলাদেশকে বিশ্বে অনন্য হিসেবে তুলে ধরার স্মারক।
৩৬ বছর আগে পদ্মা নদীতে সেতু নির্মাণের দাবিতে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন শরীয়তপুরের বাসিন্দা খোকা সিকদার এবং মাদারীপুরের সাংবাদিক আব্বাস উদ্দিন আনসারী। 'পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন পরিষদ' করে দক্ষিণাঞ্চলের জেলায় জেলায় ছড়িয়ে দেন আন্দোলন। আব্বাস উদ্দিন বিদায় নিয়েছেন। খোকা সিকদার শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক। সমকালের সঙ্গে আলাপকালে খোকা সিকদার আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে জানান, ১৯৮৬ সালে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় পদ্মা সেতু চাই ব্যানার-পোস্টার লাগালে লোকজন উপহাস করতেন। পাগল বলতেন। এখন পদ্মার বুকে মাথা উঁচু করে সেতু দাঁড়িয়ে। এক জীবনে এর চেয়ে বেশি চাওয়া থাকতে পারে না। ৩৬ বছর আগে দেখা স্বপ্নের সেতু দিয়ে বাড়ি যাব, আল্লাহর কাছে শুধু এই প্রার্থনাই করেছি। এখন মারা গেলেও শান্তি পাব।
আন্দোলন শুরুর প্রেক্ষাপট বর্ণনায় খোকা সিকদার বলেন, সেতু দাবির সামাজিক আন্দোলনের প্রেরণা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকেই পেয়েছি। তিনিই ডেকে নিয়ে উৎসাহ দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৮৬ সালে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের ২১ সদস্যের কমিটি করি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকটি জেলা কমিটি করা হলে দাবিটা তৃণমূলেও ছড়িয়ে পড়ে। কষ্টের উপার্জন দিয়ে পোস্টার-ব্যানার করেছি, কারও কাছে হাত পাতিনি।
তিনি বলেন, মাওয়া থেকে একদিন বাড়ি যাচ্ছি। উত্তাল পদ্মার ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে ফেরির যাত্রীরা আতঙ্কিত। দক্ষিণ পাড়ে নদীর শান্ত এলাকায় আসতেই কয়েক যাত্রী চিনতে পেরে বলা শুরু করলেন- এই নদীতে নাকি সেতু বানাবে খোকা সিকদার! এখন সেখানেই সেতু চালু হচ্ছে, এই আনন্দ কাউকে  বোঝাতে পারব না।